দার্জিলিং ও সিকিমে এলপিজি সংকট চরমে, পর্যটকদের পকেটে বাড়তি টান ও মেনুতে কাটছাঁট

দার্জিলিং ও সিকিমে এলপিজি সংকট চরমে, পর্যটকদের পকেটে বাড়তি টান ও মেনুতে কাটছাঁট

পাহাড়ের রান্নায় এখন আগুনের বদলে সংকটের আঁচ। দার্জিলিং ও সিকিমে বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের তীব্র হাহাকারে বিপর্যস্ত পর্যটন শিল্প। গ্যাংটক থেকে ম্যাল রোড— সর্বত্রই হোটেল ও হোম-স্টে মালিকরা রান্নার গ্যাস জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। যেখানে সপ্তাহে এক ডজন সিলিন্ডার লাগত, সেখানে একটি জোগাড় করাই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের আগেভাগেই জানিয়ে দিচ্ছেন যে, ফরমায়েশ অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু ক্ষেত্রে বুকিং বাতিলের মতো ঘটনাও ঘটছে।

এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে পর্যটকদের পকেটে। কালোবাজারি থেকে চড়া দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হওয়ায় হোটেল মালিকরা বিলের ওপর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ‘এনার্জি সারচার্জ’ যুক্ত করছেন। কোথাও আবার রুম সার্ভিসের ওপর আলাদা মাসুল বসানো হয়েছে। বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক হিটার বা ইনডাকশন ব্যবহারের চেষ্টা চললেও লো-ভোল্টেজের কারণে সেই পরিকল্পনাও সফল হচ্ছে না। ফলে হিমালয়ের কোলে প্রিয় খাবারের স্বাদ নিতে এখন পর্যটকদের আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় কোপ পড়েছে রেস্তোরাঁর মেনুতে। যেসব পদ রান্না করতে বেশি সময় বা আঁচ প্রয়োজন, যেমন— মাটন কারি, দম বিরিয়ানি বা ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি স্টু, সেগুলি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বড় রেস্তোরাঁগুলো তাদের বিশাল মেনু কমিয়ে এখন ‘লিমিটেড মেনু’ বা ‘ফিক্সড থালি’র ওপর জোর দিচ্ছে। অনেক জায়গায় খাবারের বদলে পাউরুটি, ডিম সেদ্ধ বা চটজলদি তৈরি ম্যাগি ও স্যান্ডউইচ পরিবেশন করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, সিলিন্ডারের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় খাবারের দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের কাছে আর কোনো পথ খোলা নেই।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিকিম প্রশাসন ইতিমধ্যেই ‘এলপিজি ওয়ার রুম’ খুলেছে এবং ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্টে পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। শহরাঞ্চলে সিলিন্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে ২৫ দিনের ব্যবধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্যা মেটার কোনো লক্ষণ নেই। এই অবস্থায় পাহাড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে পর্যটকদের সাথে শুকনো খাবার রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, পাহাড়ের অনিশ্চয়তা এখন কেবল আবহাওয়াতেই নয়, মিশে আছে রান্নার গ্যাসের পাইপলাইনেও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *