“‘দিদি ও দিদি’ সুর হঠাৎ উধাও! ভোটের আগে কেন ‘বিকশিত বাংলা’ বলছেন মোদী?”

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে ব্রিগেডের মেগা সমাবেশ থেকে পরিবর্তনের জোরালো ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিগত নির্বাচনের তুলনায় এবার তাঁর প্রচার কৌশলে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এক সময়ের বহুল চর্চিত “দিদি ও দিদি” সম্বোধন বা ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে পুরোপুরি দূরত্ব বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী এদিন আক্রমণ শানিয়েছেন মূলত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইস্যুগুলোতে। প্রায় ৫৫ মিনিটের বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম একবারও মুখে না এনে তিনি সরকার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে আরজি কর কাণ্ড, অনুপ্রবেশকারী সমস্যা, কাটমানি এবং দুর্নীতিসহ রাজ্যের একাধিক জ্বলন্ত ইস্যুকে হাতিয়ার করেছেন। তৃণমূল সরকারকে ‘নির্মম’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্দিষ্ট স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাজ্যে প্রশাসনিক অরাজকতা চলছে। বিশেষত, তফশিলি জাতি ও জনজাতিদের প্রতি রাজ্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন তিনি। মোদীর মতে, রাজ্যে ‘জঙ্গলরাজ’ অবসানের সময় এসেছে এবং অপরাধীদের সঠিক স্থান হওয়া উচিত কারাগারে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত আক্রমণ অনেক সময় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা এড়াতেই এই কৌশল বদল। অযথা কাদা ছোড়াছুড়ি না করে সরাসরি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে গুরুত্ব দিয়ে বিরোধীদের চাপে রাখাই এখন বিজেপির মূল লক্ষ্য। ২০২৬-এর নবান্ন দখলের লড়াইয়ে ব্যক্তিপুজোর বদলে ‘বিকশিত বাংলা’র স্বপ্ন ফেরি করে আমজনতার আস্থা অর্জন করতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী। এই কৌশলী পরিবর্তন বাংলার নির্বাচনী সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।