দিবালোকে কিশোরকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে খুন, মাংস-ঘিলু-রক্ত পান

ভোপাল: দিনের আলোয় গ্রামের রাস্তায় এক নাবালককে হাতুড়ি দিয়ে মেরে খুন করে, তার মাংস খেয়ে রক্তপান। হাড়হিম এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের দামো গ্রামে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত প্রৌঢ়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এহেন নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পিছনে কী কারণ, তা জানা যায়নি।
গ্রামেই দিদির বাড়িতে নিমন্ত্রণে এসেছিল ১৬ বছরের কিশোর। বেলার দিকে তুতো ভাইকে নিয়ে ঘুরতে বেরোয় সেই নাবালক। অথচ রাস্তায় মৃত্যু তার জন্য অপেক্ষা করছিল, সেটা টেরই পায়নি। প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত। তারপর রড দিয়ে লাগাতার মাথায় মেরে মেরে সেই কিশোরকে খুন করল এক ব্যক্তি। আর শুধু খুনই নয়। কিশোর প্রাণ হারালে, তার দেহ থেকে মাংস ছিঁড়ে খেতে থাকে সেই খুনি। এমনকি তার মাথার ঘিলুও খেতে দেখা যায় প্রৌঢ়কে। শেষে গলা ভেজানোর জন্য কিশোরের শরীরের তাজা রক্ত পান। মধ্যপ্রদেশের দামো গ্রামের এই ঘটনা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। নেটিজেনরা তা দেখে শিউরে উঠেছেন। সকলেরই প্রশ্ন, কোনও মানুষ এতটা পাশবিক কীভাবে হতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা এই হাড়হিম হত্যাকাণ্ডের ভিডিও রেকর্ড করে। সেই ভিডিওই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোরের নাম ভরত বিশ্বকর্মা। সে ইমালিয়া এলাকার অর্থখেড়া গ্রামের বাসিন্দা। সামান্না গ্রামে সে তার দিদির বাড়ি এসেছিল। ঘটনার দিন ভরত ও তার তুতো ভাই বিজয় গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। তখনই ওই গ্রামের গুড্ডা প্যাটেল নামে এক ব্যক্তি তাদের রাস্তা আটকায়। প্রথমেই সে ভরতের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে থাকে।
ভরত মাটিতে পড়ে গেলে লোহার রড দিয়ে লাগাতার তার মাথায় মেরে খুলি ফাটিয়ে দেয়। এরমধ্যেই বিজয় ভয়ে পালিয়ে গিয়ে বাড়িতে ও পড়শিদের খবর দেয়। গ্রামবাসী এলাকায় পৌঁছালে তারপর সেই নরখাদকের দৃশ্য দেখে কেউ আর গুড্ডাকে আটকাতে সাহস দেখাননি। তবে ভিড় জমতে থাকলে কিছুক্ষণের মধ্যে অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে একটি ধানের খেতে লুকিয়ে পড়ে। গ্রামবাসী তাকে ঘিরে ফেলে পুলিশকে খবর। পুলিশ এলেও হাতুড়ি নিয়ে তাড়া করেছিল গুড্ডা। তবে গ্রামবাসীদের সাহায্যে পুলিশ ওই প্রৌঢ়কে গ্রেপ্তার করে। তবে কী কারণে ভরতের মতো এক কিশোরের উপর গুড্ডা এহেন নারকীয় হামলা চালাল, তা জানা যায়নি। এর পিছনে পারিবারিক কোনও শত্রুতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুড্ডার বিরুদ্ধে স্ত্রী খুনের অভিযোগ রয়েছে। দু’বছর আগে সে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিল। গুড্ডার মানসিক কোনও রোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।