দিল্লিতে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের আইনজীবীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা, জনবহুল বাস টার্মিনালে চলল গুলি

দিল্লিতে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের আইনজীবীর ওপর প্রাণঘাতী হামলা, জনবহুল বাস টার্মিনালে চলল গুলি

রাজধানী দিল্লির বুকে মঙ্গলবার রাতে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ইন্টার স্টেট বাস টার্মিনাল চত্বর। কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের লিগ্যাল টিমের এক আইনজীবীর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। ব্যস্ততম এই এলাকায় আচমকা গুলির শব্দে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রাণ বাঁচাতে যাত্রীরা এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন।

ঘটনার বিবরণ এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় একটি গাড়িতে মোট পাঁচজন আরোহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন আইনজীবী দীপক খতরি, যিনি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন। অভিযোগ, বাইকে করে আসা দুই দুষ্কৃতী বেশ কিছুক্ষণ ধরে গাড়িটির পিছু ধাওয়া করছিল। বাস টার্মিনালের কাছাকাছি পৌঁছাতেই তারা বন্দুক বের করে সরাসরি গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। ঘাতক বুলেট গাড়ির পিছনের কাচ ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়।

এই হামলায় গাড়ির পিছনের সিটে বসে থাকা সন্দীপ নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁর কাঁধে গুলি লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে তিনি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন আইনজীবী দীপক খতরি। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, দীপক খত্রির স্ত্রী রজনী খতরিও লরেন্স বিষ্ণোইয়ের আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত। হামলার লক্ষ্য ঠিক কে ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশের বিশাল বাহিনী।

অপরাধ জগতে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দাপট

বর্তমানে গুজরাটের সবরমতী জেলে কড়া নিরাপত্তায় বন্দি রয়েছেন গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। তবে জেলে থাকলেও তাঁর অপরাধ সাম্রাজ্য যে বিন্দুমাত্র স্তিমিত হয়নি, এই ঘটনা যেন তারই প্রমাণ দিচ্ছে। এর আগে পাঞ্জাবের জনপ্রিয় গায়ক সিধু মুসে ওয়ালা হত্যাকাণ্ডে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম সরাসরি জড়িয়েছিল। শুধু তাই নয়, বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে বারবার প্রাণনাশের হুমকি এবং তোলাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে এই গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি

দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। পেশাদার কোনও গ্যাংওয়ারের জেরে এই হামলা, নাকি বিষ্ণোইয়ের আইনজীবীকে ভয় দেখাতেই এই পরিকল্পনা— তা নিয়ে ধন্দ দানা বেঁধেছে। প্রকাশ্য রাস্তায় এই ধরনের গুলিবর্ষণের ঘটনায় দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।

বিষ্ণোইয়ের আইনজীবীদের ওপর এই হামলার নেপথ্যে অন্য কোনও বিরোধী গোষ্ঠীর হাত রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না লালবাজারের গোয়েন্দারা। এখন দেখার, এই হাই-প্রোফাইল হামলার নেপথ্যে থাকা আসল চক্রীদের পুলিশ কত দ্রুত গ্রেফতার করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *