দিল্লির ১৩ জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করে বড়সড় নাগরিক সুরক্ষা মক ড্রিল

দিল্লির ১৩ জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করে বড়সড় নাগরিক সুরক্ষা মক ড্রিল

দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি যাচাই করতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শহরের ১৩টি জেলায় একযোগে ব্যাপকভিত্তিক নাগরিক সুরক্ষা মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নাগরিক সুরক্ষা নির্দেশালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই মহড়ায় সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের হামলা বা আকাশপথে আক্রমণের মতো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলা কীভাবে করা হবে, তার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ জনাকীর্ণ স্থানসহ মোট ১৭টি নির্দিষ্ট এলাকায় এই বিশেষ মহড়া চালানো হয়েছে।

আচমকা আকাশপথে হামলার সতর্কতা জারি করে এই অভিযানের সূচনা হয়। আর্জনগড় বায়ুসেনা স্টেশনের সঙ্গে নাগরিক সুরক্ষা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের হটলাইন সংযোগ ব্যবহার করে সমন্বিত অ্যালার্ট পাঠানো হয়। এরপরই সাইরেন বাজিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ‘ব্ল্যাকআউট’ বা সম্পূর্ণ অন্ধকার করে দেওয়ার প্রোটোকল মেনে চলা হয়। এই ব্ল্যাকআউট পর্বের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের সময় আলোক নিয়ন্ত্রণ ও ছদ্মবেশ ধারণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ঝুঁকি কমানোর কৌশল যাচাই করা।

মহড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল উদ্ধার অভিযান ও সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া। মালব্য নগরের রেইনবো চিলড্রেন হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও চিকিৎসাকর্মীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সাড়াদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ভবনের বেসমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ এলাকাকে বাঙ্কার হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার কৌশল ও আহতদের চিকিৎসার মহড়া সফলভাবে চালানো হয়েছে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞে দিল্লি পুলিশ, দমকল বাহিনী, এনডিআরএফ এবং হোম গার্ডের মতো একাধিক সংস্থা সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর এবং কয়েক হাজার নাগরিক সুরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক মাঠ পর্যায়ে সমন্বয় রক্ষা করেছেন। রাজস্ব বিভাগের জরুরি অপারেশন সেন্টার এবং আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলো রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করে। কর্মকর্তাদের মতে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পেশাদার সমন্বয় এবং দ্রুত সাড়াদানের ক্ষমতা পরখ করতেই এই আয়োজন।

জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে ধারণা দিতেই নিয়মিত ব্যবধানে এই ধরনের মহড়া চালানো হয়। ওমেক্স মল বা তাজ প্যালেস হোটেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও কঠোর নিরাপত্তার প্রোটোকল মেনে কাজ করা হয়েছে। এই মহড়ার বিস্তারিত রিপোর্ট আগামী ৩ এপ্রিল নাগরিক সুরক্ষা সদর দপ্তরে পেশ করবেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা, যা পরবর্তীতে মূল্যায়নের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হবে। নাগরিক সুরক্ষা দপ্তর থেকে সাধারণ মানুষকে এই ধরণের নিরাপত্তামূলক মহড়ায় সহযোগিতা করার আবেদন জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *