দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা ঠুকল হিমাচল পুলিশ, দুই রাজ্যের খাকি উর্দির নজিরবিহীন লড়াই
ভারতের সংবাদ জগতের ইতিহাসে এক বিরল ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল শিমলা-সোলান হাইওয়ে। যুব কংগ্রেস কর্মীদের গ্রেপ্তার করাকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল দিল্লি ও হিমাচল প্রদেশের পুলিশ বাহিনী। মাঝরাস্তায় চলল তুমুল বচসা, যা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
ঘটনার সূত্রপাত
গত বুধবার দিল্লির প্রগতি ময়দানে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’-এ নজিরবিহীন বিক্ষোভ দেখান যুব কংগ্রেস কর্মীরা। খালি গায়ে মোদী সরকার বিরোধী স্লোগান লেখা টি-শার্ট হাতে নিয়ে নিরাপত্তার বেষ্টনী ভেঙে ঢুকে পড়েন তাঁরা। এই ঘটনার তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ দল জানতে পারে, অভিযুক্তরা হিমাচল প্রদেশের একটি রিসর্টে লুকিয়ে রয়েছেন।
হাইওয়েতে নাটকীয় সংঘাত
শনিবার ভোরে হিমাচলের রোহরু এলাকার একটি রিসর্ট থেকে তিন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয় দিল্লি পুলিশের ১৫-২০ জনের একটি দল। কিন্তু মাঝপথেই শোগি ব্যারিয়ারের কাছে তাঁদের পথ আটকায় হিমাচল পুলিশের একটি বিশাল বাহিনী। হিমাচল পুলিশের দাবি, ট্রানজিট রিমান্ড ছাড়াই অভিযুক্তদের ভিন রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা আইনত ‘অপহরণ’-এর সামিল।
একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, দুই রাজ্যের পুলিশ আধিকারিকরা একে অপরের দিকে আঙুল তুলে চিৎকার করছেন। দিল্লি পুলিশের এসিপি রাহুল বিক্রম যখন সরকারি কাজে বাধার অভিযোগ তুলছেন, তখন হিমাচল পুলিশের পালটা দাবি— নিয়ম না মেনে এই গ্রেপ্তার আসলে বেআইনি। এই ঘটনার রেশ ধরে দিল্লি পুলিশের অজ্ঞাতপরিচয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে হিমাচল পুলিশ।
রাজনীতির রং
হিমাচল প্রদেশ বর্তমানে কংগ্রেস শাসিত রাজ্য, অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন। ফলে এই আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এক রাজ্যের পুলিশের বিরুদ্ধে অন্য রাজ্যের পুলিশের এই মামলা দায়ের করার ঘটনা প্রশাসনিক মহলে চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে।