দিল্লি সফরে বাংলাদেশের গোয়েন্দা প্রধান, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কি বরফ গলছে?

বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শীতলতা কাটাতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ভারত সফর করলেন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী। গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW) প্রধান পরাগ জৈন এবং সামরিক গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক সম্পন্ন হয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম দুই দেশের গোয়েন্দা প্রধানরা সরাসরি আলোচনায় বসলেন।
সূত্রের খবর, বৈঠকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং গত ১৮ মাস ধরে বন্ধ থাকা দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের পথগুলো পুনরায় সচল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, কোনো দেশের মাটি ব্যবহার করে যেন অন্য রাষ্ট্রের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গোয়েন্দা প্রধানের এই ত্বরিৎ দিল্লি সফরকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক সিগন্যাল’ হিসেবে দেখছে কূটনৈতিক মহল।
তবে এই যাত্রায় বেশ কিছু অমীমাংসিত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ, ২০২৬ সালে শেষ হতে চলা গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং বন্দি প্রত্যর্পণের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলো দুই দেশের টেবিলে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লির বিশেষ নজর থাকলেও, এই গোয়েন্দা পর্যায়ের সমন্বয় দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বের ভিত গড়তে কতটা সহায়ক হবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।