দুর্গাপুরে তৃণমূলের মেগা সভা থেকে অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ সায়নী ঘোষের

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে শিল্পশহর দুর্গাপুরে। রবিবার দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভার দেশবন্ধু নগর মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের এক বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধলেন তৃণমূলের যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কড়া সমালোচনা করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অপব্যবহার নিয়ে সরব হন তিনি। তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্তর সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভাটি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
সভায় বক্তব্য রাখার সময় সায়নী ঘোষ অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই-কে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, যখন কেন্দ্রীয় সংস্থা দিয়েও সুবিধা করা যাচ্ছে না, তখন এখন নির্বাচন কমিশনকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। যুব নেত্রীর মতে, বাংলার সাধারণ মানুষ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রের এই আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে রাজ্যের মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এদিন বিজেপি নেতৃত্বকে তীব্র কটাক্ষ করে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ বার্তা দেন সায়নী। তিনি পরামর্শ দেন, নির্বাচনী আবহে যদি কেউ আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে সেই টাকা আগে হাতে নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, সেই অর্থ নিজেদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে ব্যয় করা হোক, তবে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে যেন সাধারণ মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগ করেন। বিজেপি যে টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, সেই অভিযোগকেই তিনি ঘুরিয়ে কৌশলী আক্রমণ হিসেবে ব্যবহার করেন।
এই জনসভায় প্রার্থী কবি দত্ত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতৃত্ব। দুর্গাপুর পূর্বের প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার, জেলা সভানেত্রী অসীমা চক্রবর্তী, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শিবদশন দাশু এবং যুব সভাপতি পার্থ দিওয়াসি-সহ জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব এই মিছিলে অংশ নেন। নির্বাচনের ঠিক আগে দুর্গাপুরের এই সভা থেকে তৃণমূল নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে রণকৌশল সাজানোর পাশাপাশি কর্মীদের মনোবল চাঙা করার চেষ্টা করলেন। শিল্পাঞ্চলের এই জনসমর্থন ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলন ঘটাতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।