দুর্নীতি করলে মন্ত্রী বা সান্ত্রী কেউই ছাড় পাবে না, বাংলায় সপ্তম পে কমিশনের প্রতিশ্রুতি মোদির

দুর্নীতি করলে মন্ত্রী বা সান্ত্রী কেউই ছাড় পাবে না, বাংলায় সপ্তম পে কমিশনের প্রতিশ্রুতি মোদির

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে এসে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তৃণমূল জমানায় যারা সাধারণ মানুষের টাকা লুট করেছে, তাদের প্রত্যেকের বিচার হবে। মন্ত্রী হোক বা আমলা—আইনের হাত থেকে কেউ রেহাই পাবে না এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের ঠাঁই হবে জেলের অন্ধকারে। মহিলাদের ওপর হওয়া অত্যাচার ও দুর্নীতির সমস্ত ফাইল বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে পুনরায় খোলা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের পর বছর ধরে ভয়ের পরিবেশে কাজ করতে থাকা শিক্ষক ও কর্মচারীদের পাশে রয়েছে বিজেপি। রাজ্যে পদ্ম শিবির ক্ষমতায় এলেই সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ‘সপ্তম পে কমিশন’ চালু করা হবে। এছাড়া, শরণার্থীদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার বিষয়েও তিনি অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাজ্যের মৎস্য শিল্পের বেহাল দশা নিয়ে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ শাসনেও পশ্চিমবঙ্গ মৎস্য উৎপাদনে আত্মনির্ভর হতে পারেনি, বরং ভিন রাজ্য থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে। গত ১১ বছরে দেশে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও তৃণমূলের ‘পাপ’ ও দুর্নীতির কারণে বাংলা পিছিয়ে রয়েছে। বিহার ও আসামের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ওই রাজ্যগুলো এখন নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অন্য রাজ্যে মাছ রপ্তানি করছে, যা বাংলা পারছে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তৃণমূল সরকার পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ভয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছে। বিজেপি সেই ভয়ের বদলে মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনতে চায়। সরকারি সিস্টেম সাধারণ মানুষের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে এবং তৃণমূলের কোনো ‘গুণ্ডা’ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। বাংলার সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে এবং কেন্দ্রের মৎস্যজীবী উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি রাজ্যবাসীকে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *