দেড় হাজারে হবে না এবার চাই ১০ হাজার টাকা, যুবসাথী প্রকল্পে বিরাট দাবি ঘিরে শোরগোল

দেড় হাজারে হবে না এবার চাই ১০ হাজার টাকা, যুবসাথী প্রকল্পে বিরাট দাবি ঘিরে শোরগোল

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে এক অভাবনীয় দাবির ঢেউ আছড়ে পড়ল। পূর্বস্থলীতে রাজনৈতিক সমীকরণের বড়সড় রদবদলের মাঝেই এই আর্থিক দাবি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। যুব সম্প্রদায়ের একাংশের সাফ কথা, বর্তমানে মহার্ঘ বাজারে মাত্র দেড় হাজার টাকায় হাতখরচটুকুও চলে না। তাই এই ভাতার অঙ্ক একলাফে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার জোরালো দাবি তোলা হয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সমীকরণ

পূর্বস্থলী এলাকায় তৃণমূল শিবিরে বড়সড় ধস নেমেছে। প্রায় ২৫০টি তৃণমূল সমর্থিত পরিবার শাসক দল ত্যাগ করে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বাধীন ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-তে যোগ দিয়েছেন। দলবদলু এই কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের আনুগত্য সত্ত্বেও তাঁদের প্রকৃত উন্নয়ন বা দাবিদাওয়ার দিকে নজর দেওয়া হয়নি। এই গণযোগদান কর্মসূচিতে স্থানীয় নেতাদের কণ্ঠে উঠে আসে বেকার যুবকদের বঞ্চনার কথা।

পাঁঠার দামের সঙ্গে ভাতার তুলনা

আন্দোলনকারী যুবকদের হয়ে জনতা উন্নয়ন পার্টির স্থানীয় নেতৃত্ব এক বিচিত্র অথচ বাস্তবধর্মী যুক্তি সাজিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বর্তমানে বাজারে একটি সাধারণ মাপের পাঁঠার দামই প্রায় ১০ হাজার টাকা ছুঁয়েছে। সেখানে রাজ্য সরকার মাসে মাত্র দেড় হাজার টাকা দিয়ে যুবকদের কার্যত উপহাস করছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, “দেড় হাজারে আজকের দিনে কিছুই হয় না। তাই সম্মানের সাথে বাঁচতে হলে ভাতার পরিমাণ মাসিক ১০ হাজার টাকা করা একান্ত প্রয়োজন।”

হুমায়ুন কবীরের লক্ষ্য এবং ত্রিশঙ্কু সরকার

দলের প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের সুরেই সুর মিলিয়েছেন নবাগত কর্মীরা। তাঁদের রাজনৈতিক লক্ষ্য এখন অত্যন্ত স্পষ্ট। আগামী দিনে রাজ্যে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতার বদলে একটি ‘ত্রিশঙ্কু সরকার’ গঠন করাকেই তাঁরা পাখির চোখ করছেন। তাঁদের বিশ্বাস, সরকার যদি একক শক্তিতে না থাকে, তবেই সাধারণ মানুষের এবং যুবকদের এই ধরনের ছোট-বড় দাবি আদায় করা সম্ভব হবে। কিংসমেকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে যুবসাথীর টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে নেওয়ার এই কৌশল এখন রাজ্য রাজনীতির নতুন চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *