দেশের মেয়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

দেশের মেয়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

নিউজ ডেস্ক

নারীদের মারণব্যাধি ক্যানসার মুক্ত করতে এবং দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নে এক বিশাল কর্মযজ্ঞের সাক্ষী হতে চলেছে রাজস্থান ও গুজরাট। শনিবার এই দুই রাজ্য সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফরের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের জন্য জরায়ু মুখ ক্যানসার বা সার্ভাইকাল ক্যানসার প্রতিরোধে ‘হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস’ (এইচপিভি) টিকাকরণের এক দেশব্যাপী মেগা অভিযানের সূচনা।

ক্যানসার মুক্ত ভবিষ্যতের অঙ্গীকার

নারীদের অকাল মৃত্যু রোধ এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই টিকাকরণ কর্মসূচি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় (পিএমও) থেকে জানানো হয়েছে, জরায়ু মুখের ক্যানসার প্রতিরোধে এটি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে কয়েক কোটি কিশোরীকে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজস্থানে উন্নয়নের জোয়ার ও নিয়োগপত্র বিলি

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী রাজস্থানে ১৬,৬৮০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করবেন। এর মধ্যে রয়েছে:

  • যোগাযোগ ব্যবস্থা: বান্দিকুই থেকে জয়পুর পর্যন্ত ৪ লেনের গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ে এবং অমৃতসর-জামনগর অর্থনৈতিক করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ অংশের উদ্বোধন।
  • পানীয় জল ও সেচ: সাধারণ মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জল নিশ্চিত করতে নোনেরা ও পরওয়ান আকওয়াদ পানীয় জল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।
  • বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো: রাজস্থানের নবায়নযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে বেশ কয়েকটি গ্রিড সাবস্টেশন ও ট্রান্সমিশন লাইনের উদ্বোধন।
  • কর্মসংস্থান: দেশের যুবশক্তির ক্ষমতায়নে রাজস্থানের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে নবনিযুক্ত ২১,৮০০ জনের হাতে সরাসরি নিয়োগপত্র তুলে দেবেন মোদী।

সেমিকন্ডাক্টর বিপ্লবের পথে ভারত

রাজস্থানের কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী বিকেল পৌনে ৪টে নাগাদ পৌঁছাবেন গুজরাটের সানন্দে। সেখানে তিনি ‘মাইক্রন সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’-এর অত্যাধুনিক এটিএমপি (অ্যাসেম্বলি, টেস্ট এবং প্যাকেজিং) প্ল্যান্টের উদ্বোধন করবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছিল। ২২,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কারখানাটি ভারতের সেমিকন্ডাক্টর মিশনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এই প্ল্যান্টটি পুরোপুরি চালু হলে প্রায় ৫ লক্ষ বর্গফুট জুড়ে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ‘ক্লিনরুম’ এলাকা তৈরি হবে, যা ভারতকে চিপ তৈরির বিশ্ববাজারে এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করাবে।

একদিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, অন্যদিকে যোগাযোগ ও প্রযুক্তি— মোদীর এই ঝটিকা সফরে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে ভারত এক নতুন রূপ পেতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *