দেশে ৬০ দিনের খনিজ তেলের মজুত রয়েছে, ৮ রাজ্যে বাণিজ্যিক এলপিজি কোটা বাড়ল ১০ শতাংশ

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ভারতের শক্তি নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় স্বস্তির খবর দিল কেন্দ্র। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে বর্তমানে পরবর্তী ৬০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ গ্রাহকদের প্রাকৃতিক গ্যাসের জোগান ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাত শর্মা এক আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক বৈঠকে এই তথ্য ভাগ করে নিয়েছেন।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে রিফাইনারিগুলো বর্তমানে পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে। জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক স্তরে তেলের দামে চড়াই-উতরাই থাকলেও দেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে আবগারি শুল্ক হ্রাসের পাশাপাশি তেল বিপণন সংস্থাগুলো আর্থিক বোঝার একটি অংশ বহন করছে। এছাড়া বাণিজ্যিক ও শিল্প ক্ষেত্রে গতি বজায় রাখতে আটটি রাজ্যে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের কোটা আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বিদেশের মাটিতে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও সক্রিয় রয়েছে কেন্দ্র। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ইরান থেকে স্থলসীমান্ত দিয়ে ইতিমধ্যেই ১,২০০ ভারতীয়কে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯৯৬ জন আর্মেনিয়া এবং ২০৪ জন আজারবাইজানে পৌঁছেছেন। ভারতীয় নাগরিকদের এই নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ভারত সরকার।
সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাবর্ষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে জেইই (JEE) এবং নিট (NEET) পরীক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা বা এনটিএ-র সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় রক্ষা করছে বিদেশ মন্ত্রক। এর পাশাপাশি পণ্য রপ্তানি ও বাণিজ্য সচল রাখতে শুল্ক এবং বন্দর সুবিধায় বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। দ্রুত পচনশীল পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একটি বিশেষ উপ-গোষ্ঠীও কাজ করছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তাতেও বিশেষ জোর দিচ্ছে নৌপরিবহন মন্ত্রক। বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিম পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ১৮টি ভারতীয় জাহাজের ৪৮৫ জন নাবিক সুরক্ষিত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং-এর কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত ওই অঞ্চল থেকে ৯৭৫ জনের বেশি ভারতীয় নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ফিরেছেন ১১ জন।