ধনী হওয়ার পথে বাধা এই ৫টি অভ্যাস আজই ত্যাগ করুন

বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের মতে, আর্থিক সংকট হঠাত করে আসে না বরং আমাদের প্রাত্যহিক ছোটখাটো ভুলের মাধ্যমেই এটি তৈরি হয়। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তোলে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের আর্থিক মেরুদণ্ড দুর্বল করে দেয়। আপনি যদি ভবিষ্যতে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তবে বাফেটের পরামর্শ অনুযায়ী পাঁচটি বিশেষ অভ্যাস থেকে দূরে থাকা জরুরি।
প্রথমত, ক্রেডিট কার্ডের অত্যধিক ব্যবহার আপনার উপার্জনকে গ্রাস করতে পারে। ক্রেডিট কার্ডে সুদের হার সাধারণত ১৮ শতাংশ বা তার বেশি থাকে, যা আপনার কষ্টার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ কেড়ে নেয়। বাফেটের মতে, উচ্চ সুদে ঋণ পরিশোধ করা মানে নিজের সম্পদ অন্যকে বিলিয়ে দেওয়া। তাই আর্থিক সমৃদ্ধির প্রথম ধাপ হলো ক্রেডিট কার্ডের বোঝা থেকে নিজেকে মুক্ত করা।
দ্বিতীয়ত, রাতারাতি ধনী হওয়ার প্রবণতা ত্যাগ করতে হবে। বর্তমানে অনেকেই দ্রুত টাকা কামানোর আশায় ভুল পথে পা বাড়ান। কিন্তু বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধৈর্যের কোনো বিকল্প নেই। বাফেট মনে করেন, একটি গাছ বড় হতে যেমন সময় লাগে, বিনিয়োগ থেকে মুনাফা আসতেও তেমনই অপেক্ষা প্রয়োজন। আয়ের পর খরচ করে যা বাঁচে তা জমানোর চেয়ে, আগে বিনিয়োগ করে তারপর অবশিষ্ট টাকা খরচ করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
তৃতীয়ত, সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য বিশাল বাড়ি কেনা একটি বড় আর্থিক ফাঁদ। বিশাল অঙ্কের গৃহঋণ বা ইএমআই দিতে গিয়ে যদি আয়ের সিংহভাগ শেষ হয়ে যায়, তবে বিনিয়োগের আর সুযোগ থাকে না। বাফেটের মতে, বাড়ি থাকা উচিত থাকার জন্য, অন্যদের দেখানোর জন্য নয়। আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আবাসন নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ।
চতুর্থত, লটারি বা জুয়ার মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করা বোকামি। এক রাতে কোটিপতি হওয়ার নেশায় মানুষ অনেক সময় সঞ্চিত অর্থও হারিয়ে ফেলে। এই অভ্যাসগুলো আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হলেও ভবিষ্যতের বড় সম্পদ গড়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। জুয়া বা লটারির মতো অনিশ্চিত উপায়ের চেয়ে সুশৃঙ্খল বিনিয়োগই সম্পদ বৃদ্ধির আসল চাবিকাঠি।
পঞ্চমত, স্ট্যাটাস বজায় রাখতে ঘনঘন নতুন গাড়ি কেনা বন্ধ করতে হবে। গাড়ি কেনার মুহূর্ত থেকেই তার বাজারমূল্য কমতে শুরু করে। ওয়ারেন বাফেট নিজে বহু বছর পুরনো গাড়ি ব্যবহার করে প্রমাণ করেছেন যে, অপ্রয়োজনীয় আভিজাত্যে অর্থ ব্যয় না করে সেই টাকা বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে অনেক বেশি সম্পদ তৈরি করা সম্ভব। তাই ধনী হতে হলে কেবল আয় বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, অপব্যয় রোধ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।