“ধর্ম-সংস্কৃতি সব কেড়ে নেবে বিজেপি, UCC আসলে অধিকার হরণের চক্রান্ত!” গর্জে উঠলেন মমতা

“ধর্ম-সংস্কৃতি সব কেড়ে নেবে বিজেপি, UCC আসলে অধিকার হরণের চক্রান্ত!” গর্জে উঠলেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) নিয়ে সরাসরি তোপ দেগেছেন। কেশিয়াড়ির এক জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, এই বিধি কার্যকর হলে সাধারণ মানুষের ধর্মচর্চা এবং ব্যক্তিগত অধিকার খর্ব হবে। নির্বাচনী আবহে মমতার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ধর্ম ও সংস্কৃতি বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব রীতিনীতি রয়েছে। তিনি বলেন, হিন্দু, মুসলিম, আদিবাসী এবং খ্রিস্টানদের বিয়ের পদ্ধতি ও সামাজিক আচার আলাদা। কিন্তু বিজেপি সরকার একটিমাত্র নীতি চাপিয়ে দিতে চাইছে। তার দাবি, এর ফলে সাধারণ মানুষের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়বে।

রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রভাব বিশ্লেষণ

মুখ্যমন্ত্রী এই পদক্ষেপকে বিজেপির ‘এক দেশ, এক নীতি’র অংশ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষণে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আশঙ্কার দিক হলো:

  • অধিকার হরণ: মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, ইউসিসি কার্যকর হলে মানুষের নিজের ইচ্ছেমতো ধর্মপালনের স্বাধীনতা থাকবে না।
  • ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন: তিনি ইভিএম মেশিনে কারচুপি এবং চিপ ব্যবহারের মাধ্যমে ভোট চুরির অভিযোগও তুলেছেন।
  • ডিলিমিটেশন বিল: মমতা সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচনের মধ্যেই সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন বিল এনে বাংলাকে খণ্ডবিখণ্ড করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

স্ক্যাম ও আর্থিক সতর্কতা

তৃণমূল নেত্রী এসআইআর (SIR)-কে একটি বড় স্ক্যাম হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমে প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৬০ লক্ষ হিন্দু এবং ৩০ লক্ষ সংখ্যালঘু নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়াও, ভোটারদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্যের ব্যাপারে সতর্ক করে তিনি জানান, ভোটের আগে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকিয়ে পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় সংস্থা দিয়ে হয়রানি করার সম্ভাবনা রয়েছে।

একঝলকে

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্কবার্তা।

UCC-কে ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে দাবি মমতার।

বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিয়ের রীতিনীতি রক্ষা করার ডাক।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে বাংলা ভাগের আশঙ্কার কথা প্রকাশ।

ইভিএম এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে কড়া সমালোচনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *