নকশালবাড়িতে রণক্ষেত্র! পোস্টার ছেঁড়া নিয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই তৃণমূল-বিজেপির, জখম ১১

নির্বাচনের দামামা বাজতেই তপ্ত হয়ে উঠল নকশালবাড়ি। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের এই ব্লকে পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে নকশালবাড়ির রায়পাড়া এলাকায় এই সংঘাতের জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পুরো এলাকা। লাঠি-সোটা নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হওয়ায় উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন জখম হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও রাজনৈতিক পারদ
ঘটনার মূলে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারের পোস্টার। তৃণমূলের দাবি, রায়পাড়া এলাকায় তাদের লাগানো পোস্টারগুলো বিজেপির কর্মীরা গায়ের জোরে ছিঁড়ে ফেলেছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাতাহাতি থেকে শুরু হওয়া এই বিবাদ মুহূর্তেই বড় সংঘর্ষের রূপ নেয়। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ তুলেছে। বর্তমানে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।
আহতদের অবস্থা ও হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা
এই সংঘর্ষে বিজেপির ৮ জন এবং তৃণমূলের ৩ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত নকশালবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছান বিজেপি প্রার্থী আনন্দময় বর্মন। তাঁকে দেখা মাত্রই তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে হাজির হন তৃণমূল প্রার্থী শঙ্কর মালাকার। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর উপস্থিতিতে খোদ হাসপাতাল চত্বরেই চরম বিশৃঙ্খলা ও স্লোগান-পালটা স্লোগান শুরু হয়।
অভিযোগ ও পালটা অভিযোগের লড়াই
তৃণমূল নেতা অরুণ ঘোষ এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করে বলেন, “শান্ত এলাকাকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করছি।” অন্যদিকে শঙ্কর মালাকারের দাবি, পরাজয়ের ভয়েই বিজেপি কর্মীরা তাঁদের পোস্টার ছিঁড়ছে।
বিজেপি প্রার্থী আনন্দময় বর্মন সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর পাল্টা দাবি, তৃণমূল এলাকা জুড়ে বিজেপিকে বয়কট করার উসকানিমূলক পোস্টার লাগিয়েছিল। কর্মীরা তা সরাতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
একঝলকে
- ঘটনাস্থল: নকশালবাড়ির রায়পাড়া এলাকা।
- মূল কারণ: নির্বাচনী পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে বিবাদ।
- আহত: মোট ১১ জন (বিজেপির ৮ জন, তৃণমূলের ৩ জন)।
- বর্তমান অবস্থা: এলাকায় পুলিশ মোতায়েন, পরিস্থিতি থমথমে।
- হাসপাতাল পরিস্থিতি: দুই দলের প্রার্থীর উপস্থিতিতে উত্তেজনা।