নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি! আইনের ডিগ্রিই জাল, অথচ ৫ বছর হাইকোর্টে বিচারপতি

নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি! আইনের ডিগ্রিই জাল, অথচ ৫ বছর হাইকোর্টে বিচারপতি

পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার ভিত নাড়িয়ে দেওয়া এক নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এল। যে বিচারপতি গত পাঁচ বছর ধরে মানুষের ন্যায়-অন্যায়ের বিচার করেছেন, তাঁর নিজের আইনের ডিগ্রিটিই ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়েছে। ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি তারেক মাহমুদ জাহাঙ্গিরিকে নিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই থমকে গিয়েছে সে দেশের আইনি মহল। জাল নথির সাহায্যে উচ্চপদের দায়িত্ব সামলানোর এই ঘটনায় রীতিমতো মুখ পুড়েছে প্রশাসনের।

প্রতারণার জাল কত গভীরে?

আদালতের ১-১৬ পাতার এক দীর্ঘ রায়ে বিচারপতি জাহাঙ্গিরির জালিয়াতির বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ১৯৮৮ সালে তিনি একটি ভুয়া এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে আইন পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, পরীক্ষার হলে নকল করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরাও পড়েন তিনি। অপরাধের গুরুত্ব বুঝে ১৯৮৯ সালে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করেছিল।

নাম বদলে জালিয়াতি

শাস্তির খাঁড়া থেকে বাঁচতে এবং নিজের ক্যারিয়ার গড়তে তিনি বেছে নিয়েছিলেন প্রতারণার পথ। ‘তারেক জাহাঙ্গিরি’ নাম বদলে ‘ইমতিয়াজ আহমেদ’ নামে অন্য এক ছাত্রের এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে পুনরায় পরীক্ষায় বসেন তিনি। এমনকি যে ল কলেজের ছাত্র হিসেবে তিনি নিজেকে দাবি করেছিলেন, সেই কলেজের অধ্যক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে জাহাঙ্গিরি কোনোদিন তাঁদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তিই হননি।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড়সড় গলদ

২০২০ সালের ডিসেম্বরে ধুমধাম করে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান জাহাঙ্গিরি। দীর্ঘ তিন বছর বিচারপতির আসনে বসার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে। আদালত তাঁকে নিজের সপক্ষে আসল নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দিলেও তিনি কোনো বৈধ প্রমাণ দেখাতে পারেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত তাঁকে পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছে।

এই ঘটনা কেবল একজন ব্যক্তির অপরাধ নয়, বরং পাকিস্তানের বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। একজন জালিয়াত কীভাবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আসনে বসলেন এবং গোয়েন্দা বিভাগ কেন তাঁর অতীত যাচাই করতে ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে উত্তাল সে দেশের সংবাদমাধ্যম। এই কেলেঙ্কারির নেপথ্যে প্রশাসনের আর কারা জড়িত, তা নিয়েও এখন উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *