নন্দীগ্রামের পর এবার কি ভবানীপুর? মনোনয়ন পেশের দিনেই মমতার হার নিয়ে শুভেন্দুর বড় ভবিষ্যৎবাণী

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের সবথেকে বড় রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্র ভবানীপুরে পারদ চড়ল কয়েক গুণ। বুধবার দুপুরে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে নিজের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘরের মেয়ের এই মনোনয়ন ঘিরে যেমন উচ্ছ্বাস দেখা গেছে সমর্থকদের মধ্যে, তেমনই প্রতিপক্ষ শিবির থেকে ধেয়ে এসেছে তীব্র আক্রমণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, ঠিক তখনই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও হারের মুখ দেখতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজপথে মমতার পদযাত্রা ও জনস্রোত
কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরনে ছিল তাঁর চিরচেনা সাদা শাড়ি ও সবুজ পাড়। দলের প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি হেঁটে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে রওনা হন। রাস্তার দু’ধারে ছিল সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। নীল-সাদা বেলুন আর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত ছিল গোটা এলাকা। মনোনয়ন পেশ শেষে আত্মবিশ্বাসী নেত্রী জানান যে ভবানীপুর তাঁর প্রাণের জায়গা এবং বাংলার মানুষ ২৯৪টি কেন্দ্রেই জোড়াফুল প্রার্থীদের জয়ী করে ফের তৃণমূল সরকার গড়বে।
শুভেন্দুর পাল্টা তোপ ও দুর্নীতির অভিযোগ
মমতার এই বড় দাবির দিনেই পাল্টা সুর চড়িয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। বেহালায় বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার করতে এসে তিনি তৃণমূলনেত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করেন। শুভেন্দু বলেন, “ওঁর এত চিন্তা কেন? ওঁর কথা অনুযায়ী আমার সঙ্গে তো মাত্র ১৬ জন লোক আছে! এজেন্টই তো দিতে পারব না, তবে আমাকে এত গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন?”
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর দুর্নীতির সব হিসাব নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ মন্ত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, এই নির্বাচনেও মুখ্যমন্ত্রী পরাজিত হতে চলেছেন।
ভোটের সমীকরণ ও লড়াইয়ের ময়দান
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই কেন্দ্রের লড়াই এখন মূলত দুই মেরুর রাজনৈতিক কৌশলের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
- মমতার কৌশল: নিজের পুরনো এলাকা এবং ‘ঘরের মেয়ে’ ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের আবেগ স্পর্শ করা।
- শুভেন্দুর কৌশল: দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শাসকদলের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করা এবং নন্দীগ্রামের জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
ভবানীপুরের এই প্রেস্টিজ ফাইটে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা পরিষ্কার হবে আগামী ৪ মে ফলাফল প্রকাশের দিন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই ভবিষ্যৎবাণী নিছক আক্রমণ নাকি বাস্তবের পূর্বাভাস, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।
এক ঝলকে
- মনোনয়ন পেশ: বুধবার আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন জমা।
- মমতার দাবি: ভবানীপুর সহ বাংলার ২৯৪টি আসনেই তৃণমূলের জয় নিশ্চিত।
- শুভেন্দুর কটাক্ষ: নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিতীয়বার হারবেন।
- মূল ইস্যু: শুভেন্দুর নিশানায় শাসকদলের দুর্নীতি এবং ‘হিসাব বুঝে নেওয়া’র চ্যালেঞ্জ।
- ভোটের দিনক্ষণ: ভবানীপুরে ভোট ২৯ এপ্রিল এবং ফলাফল ৪ মে।