নববর্ষের উপহারে শান্তিপুরের শাড়ি আবদার অভিষেকের মায়ের, জনসভায় হালকা মেজাজে মমতা

নববর্ষের উপহারে শান্তিপুরের শাড়ি আবদার অভিষেকের মায়ের, জনসভায় হালকা মেজাজে মমতা

শান্তিপুরের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের অবতারণা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় প্রার্থী ব্রজকিশোর গোস্বামীর সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর শান্তিপুর সফরের কথা শুনে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা তাঁর কাছে উপহার হিসেবে শাড়ি চেয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহাস্যে বলেন, “অভিষেকের মা মজা করে বলেছে আমার জন্য দুটো শাড়ি এনো। নববর্ষের আগে বাড়ির বউ সোনা-দানা কিছু না চেয়ে যদি দুটো শাড়ি চায়, তবে তা কি দেব না?”

মুখ্যমন্ত্রী নিজের পোশাক নিয়েও এদিন স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, তাঁর পরনের শাড়িটিও শান্তিপুরের তাঁতশিল্পীদের তৈরি। নিজের ডিজাইন করা শাড়ি পরতে ভালোবাসেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তিপুর ও বসাকদের তৈরি শাড়ির কদর উৎসবের মরসুমে আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘ নির্বাচনী প্রচারের ক্লান্তি এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। টানা ১৫ দিন হোটেলের বাইরে থাকলেও বাইরের খাবার এড়িয়ে চিঁড়ে-মুড়ি বা সেদ্ধ ডিম খেয়েই তিনি দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।

শান্তিপুর ছাড়াও এদিন বেথুয়াডহরি ও পূর্বস্থলীতে প্রচার সারেন তৃণমূল নেত্রী। রাজনৈতিক আক্রমণের সুর চড়িয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি দিল্লিতে বসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। সাধারণ মানুষ ব্যালট বক্সেই এর যোগ্য জবাব দেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ১৯৯০ সালের হামলার পর থেকে ঝাল খাবার ত্যাগের কথাও এদিন তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

মূলত লোকসভা নির্বাচনের আবহে একদিকে যেমন পারিবারিক সম্পর্কের রসায়ন তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তেমনই অন্যদিকে শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের প্রতিও তাঁর বিশেষ অনুরাগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে প্রযুক্তিগত কারচুপির অভিযোগ তুলে বিরোধী শিবিরকে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *