নয়ডা জেলা হাসপাতালে চরম গাফিলতি, মানুষের জন্য এল পশুদের চিকিৎসার ৬০ হাজার সিরিঞ্জ

নয়ডা জেলা হাসপাতালে চরম গাফিলতি, মানুষের জন্য এল পশুদের চিকিৎসার ৬০ হাজার সিরিঞ্জ

নয়ডার সরকারি জেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবার কঙ্কালসার চেহারা প্রকাশ্যে এল। রোগীদের চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যবহারের বদলে ভুলবশত পশুদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত প্রায় ৬০ হাজার সিরিঞ্জের বরাত দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। লখনউয়ের একটি সরবরাহকারী সংস্থা থেকে যখন এই সিরিঞ্জের বরাত হাসপাতালে পৌঁছায়, তখন বাক্স খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ কর্মীদের। প্রতিটি প্যাকেটের ওপর স্পষ্ট বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘পশু চিকিৎসায় ব্যবহার্য’।

গত ২৫ ডিসেম্বর সরকারি ক্রয় পোর্টাল জেম-এর মাধ্যমে এই সিরিঞ্জগুলির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই অর্ডারের প্রক্রিয়াটি হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট থেকে শুরু করে এসএমও স্টোর এবং সবশেষে সিএমএস পর্যন্ত মোট তিনটি উচ্চপদস্থ আধিকারিক স্তরে যাচাই করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি স্তরে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখার কথা থাকলেও, কেউই এই মস্ত বড় ভুলটি লক্ষ্য করেননি।

পুরো ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পোর্টালে যখন পশু চিকিৎসার সিরিঞ্জ হিসেবেই অর্ডারটি নথিভুক্ত করা হয়েছিল, তখন কীভাবে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সেটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেন, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাসপাতালের নজরদারি ও অভ্যন্তরীণ যাচাই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ব্যর্থতা এই ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।

হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিএমএস অজয় রানা এই পুরো বিষয়টিকে ‘মানবিক ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, ভুলটি ধরা পড়ার সাথে সাথেই সমস্ত সিরিঞ্জ সরবরাহকারী সংস্থাকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, এই অর্ডারের জন্য এখনও পর্যন্ত কোনো বিল তৈরি করা হয়নি এবং কোনো অর্থও প্রদান করা হয়নি। সঠিক সময়ে ভুল ধরা পড়ায় কোনো রোগীর ক্ষতি হয়নি বলে দাবি প্রশাসনের।

কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করলেও, এই ঘটনা জনমানসে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যদি অজান্তে এই সিরিঞ্জগুলি ওয়ার্ডে পৌঁছে যেত এবং মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হতো, তবে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারতো। নয়ডার মতো একটি উন্নত শহরের প্রধান সরকারি হাসপাতালে এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের স্বচ্ছতা ও সদিচ্ছাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *