নাকাশিপাড়ায় তৃণমূলের দুর্গ রক্ষা না পরিবর্তনের হাওয়া? লড়াই এখন অস্তিত্ব রক্ষার

নাকাশিপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া। লোকসভা নির্বাচনে লিড থাকলেও এবার মার্জিন বাড়াতে পাঁচবারের বিধায়ক কল্লোল খাঁ-র ওপরই ভরসা রেখেছে ঘাসফুল শিবির। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র হলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে সরকারি অনুদানে খুশি ভোটারদের বড় অংশ, অন্যদিকে এলাকার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে বিরোধী পক্ষ।
নির্বাচনী আবহে এলাকার প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৩০ হাজার নাম বাদ পড়ার বিতর্ক। স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। তৃণমূল প্রার্থী কল্লোল খাঁ যখন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, তখন বিজেপি প্রার্থী শান্তনু দে বর্তমান বিধায়কের দীর্ঘ মেয়াদে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে লড়াই জমিয়ে তুলেছেন।
বিগত বিধানসভা নির্বাচনে ২৩ হাজার ভোটে জয়ী হওয়া তৃণমূলের জন্য এবারের লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। লোকসভা ভোটে ব্যবধান কিছুটা কমলেও কর্মীরা হারানো জমি ফিরে পেতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন। সংখ্যালঘু ভোটের মেরুকরণ এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ইস্যু এই নির্বাচনে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার নাকাশিপাড়ায় লড়াই কেবল উন্নয়নের নয়, বরং মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার।