নাকের নিচে ওই গভীর দাগটি কেন থাকে? এর পেছনে লুকিয়ে এক রহস্যময় বৈজ্ঞানিক কারণ

মানুষের শরীরের প্রতিটি ভাঁজ বা রেখার পেছনে থাকে নির্দিষ্ট কারণ। নাকের ঠিক নিচে এবং ওপরের ঠোঁটের মাঝখানে যে লম্বালম্বি খাঁজ দেখা যায়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় ‘ফিল্ট্রাম’ (Philtrum)। জানলে অবাক হবেন, এটি আসলে আমাদের চেহারার একটি ‘ওয়েল্ডিং পয়েন্ট’।
কেন তৈরি হয় এই খাঁজ?
ভ্রূণতত্ত্ব বা এমব্রায়োলজি অনুযায়ী, মাতৃগর্ভে যখন মানব শিশুর মুখমণ্ডল তৈরি হয়, তখন চেহারার ডান ও বাম দিক এসে ঠিক এই জায়গায় মিলিত হয়। গর্ভধারণের দুই থেকে তিন মাসের মাথায় মুখমণ্ডলের এই জোড়া লাগার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। ঠিক যে জায়গায় দুই অংশ একে অপরের সাথে মিশে যায়, সেখানেই এই প্রাকৃতিক রেখা বা জংশন তৈরি হয়। সহজ কথায়, এটি আমাদের মুখমণ্ডলের সংযোগস্থল।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর গুরুত্ব
এই ফিল্ট্রামের আকার দেখে চিকিৎসকরা অনেক সময় স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পান।
- যদি কারও এই রেখাটি একদম সমতল বা অস্পষ্ট হয়, তবে তা ‘ফেটাল অ্যালকোহল সিনড্রোম’ বা কোনো জন্মগত ত্রুটির লক্ষণ হতে পারে।
- গর্ভে এই জোড়া লাগার প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে শিশুর ঠোঁট কাটা বা তালু কাটা (Cleft Lip or Palate) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পশুদের ক্ষেত্রে এর কাজ
মানুষের জন্য এটি কেবল একটি শৈল্পিক রেখা হলেও কুকুর বা বিড়ালের মতো স্তন্যপায়ী প্রাণীদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। এই খাঁজের মাধ্যমে নাকের আর্দ্রতা ওপরের ঠোঁট পর্যন্ত পৌঁছায়। ফলে তাদের নাক সবসময় ভেজা থাকে, যা বাতাসের গন্ধ শুঁকতে এবং দিক নির্ণয় করতে সাহায্য করে।
পৌরাণিক বিশ্বাস বনাম বিজ্ঞান
বিভিন্ন লোককথা অনুযায়ী মনে করা হয়, জন্মের সময় দেবদূত বা ঈশ্বরের হাতের স্পর্শের কারণে এই চিহ্ন তৈরি হয়। তবে বিজ্ঞান বলছে, এটি পুরোপুরি একটি প্রাকৃতিক এবং শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার ফসল।
উপরিউক্ত তথ্যসমূহ সাধারণ সচেতনতার জন্য। যেকোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।