নাগরিকত্ব নিয়ে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালল যুবসাথী! মতুয়াগড়ে বিজেপির বিরোধ উড়িয়ে রেকর্ড আবেদন

নাগরিকত্ব নিয়ে ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালল যুবসাথী! মতুয়াগড়ে বিজেপির বিরোধ উড়িয়ে রেকর্ড আবেদন

নাগরিকত্ব ইস্যুতে যখন ক্ষোভের আগুনে পুড়ছে মতুয়াগড়, ঠিক তখনই গেরুয়া দুর্গে বড়সড় ধস নামাল রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। নাগরিকত্ব অধরা এবং এসআইআর নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা জনরোষের আবহে খোদ বিজেপির খাসতালুক বনগাঁয় এই প্রকল্পে আবেদনের পাহাড় প্রমাণ সংখ্যা দেখে ঘুম উবেছে রাজনৈতিক মহলের। বিজেপির প্রকাশ্য বিরোধিতা সত্ত্বেও এই বিপুল সাড়াকে আগামী নির্বাচনের আগে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমায় আবেদনের সংখ্যা জেলার অন্যান্য প্রান্তকে ছাপিয়ে গিয়েছে। মহকুমার তিনটি ব্লক এবং দু’টি পুরসভা মিলিয়ে মোট ৭৬ হাজার ৮৬১টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে বনগাঁ ব্লকে ২৪ হাজার ৭১৯টি এবং গাইঘাটায় ২১ হাজার ৫১৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এ ছাড়াও বাগদা, গোবরডাঙা এবং বনগাঁ পুর এলাকাতেও আবেদনের হার ছিল চোখে পড়ার মতো।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক বছর ধরে মতুয়া ভোট ব্যাঙ্ককে হাতিয়ার করে বনগাঁয় নিজেদের ভিত শক্ত করেছিল বিজেপি। কিন্তু সম্প্রতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় সেই মোহভঙ্গ হতে শুরু করেছে। মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের দাবি, নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি স্রেফ স্বপ্নই থেকে গিয়েছে। এই আবহে রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পে স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বিজেপির অস্বস্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী জানান, পুরো জেলায় ৫ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়লেও বিজেপির গড় হিসেবে পরিচিত বনগাঁর পরিসংখ্যান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে, পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি জাফর আলি মণ্ডলের মতে, সরকার পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও দল দেখে না। সূর্য বিশ্বাস বা সৃজা হালদারের মতো আবেদনকারীদের কথায়, পড়াশোনা ও কলেজ যাতায়াতের খরচ সামলাতে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকল্প তাঁদের দারুণ সুবিধা করে দেবে।

পাল্টা যুক্তিতে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছেন, সরকারি প্রকল্পে আবেদন করা মানেই রাজনৈতিক সমর্থন নয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যে প্রকল্পকে বিজেপি তীব্র আক্রমণ করেছে, সেই প্রকল্পেই সাধারণ মানুষের এই রেকর্ড সাড়া বনগাঁর রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *