নাগরিকদের জীবন সহজ করতে সুশাসনের ওপর জোর প্রধানমন্ত্রী মোদীর

নাগরিকদের জীবন সহজ করতে সুশাসনের ওপর জোর প্রধানমন্ত্রী মোদীর

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার সুশাসনের লক্ষ্যে ‘নাগরিক প্রথম’ বা সিটিজেন ফার্স্ট মন্ত্রটি গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও উন্নত করতে শাসন ব্যবস্থাকে ক্রমাগত আধুনিকীকরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর মূল ভিত্তি হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের সেবা এবং তাঁদের প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

নতুন দিল্লির এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ভারতের প্রশাসনের মূল মন্ত্র হওয়া উচিত ‘নাগরিক দেবো ভবঃ’। জনসেবাকে সাধারণ মানুষের চাহিদার প্রতি আরও দক্ষ এবং সংবেদনশীল করার জন্য পুনর্গঠন করা হচ্ছে। ‘সাধনা সপ্তাহ’ কর্মসূচির সূচনায় তিনি উল্লেখ করেন যে, শাসন ব্যবস্থাকে এখন প্রকৃত অর্থে নাগরিক-কেন্দ্রিক করে একটি নতুন পরিচয় দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী লোকসেবকদের অর্থাৎ সরকারি আধিকারিকদের প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার এবং আত্মোন্নতির পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান প্রতিদিন কতটা উন্নত হচ্ছে, সেটাই হওয়া উচিত সুশাসনের আসল মাপকাঠি। সরকারি কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা ছিল, প্রশাসনিক কাজে চিরাচরিত ‘কর্তৃত্ব’ দেখানোর চেয়ে ‘কর্তব্য’ পালনের ওপর বেশি জোর দেওয়া প্রয়োজন।

প্রশাসনিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদী জানান, পুরনো ব্যবস্থায় পদমর্যাদার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে দেশ সম্পূর্ণভাবে কর্তব্যের আদর্শের ওপর আলোকপাত করছে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেই কাজ কর্তব্যের দাবি পূরণ করছে কি না, তা বিচার করলে সেই সিদ্ধান্তের ইতিবাচক প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত বর্তমানে দ্রুত গতিতে উন্নতির পথে অগ্রসর হচ্ছে। এই অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে এবং বিশ্বজুড়ে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে দেশের শাসন প্রণালীকেও নিয়মিত আপডেট বা আধুনিক করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মানসিকতার পরিবর্তনই এই উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে।

কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, ‘সাধনা সপ্তাহ’ তৃণমূল স্তরে সরকারি পরিষেবার মান বৃদ্ধি করবে। উল্লেখ্য, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশন (সিবিসি) আগামী ৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই বিশেষ সপ্তাহের আয়োজন করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো সরকারি আধিকারিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবিক যোগ্যতা সুসংহত করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *