নাটোকে কাগজি বাঘ আখ্যা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধের স্মৃতি কখনও মস্তিস্ক থেকে মুছে যাবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি উত্তর আটলান্টিক সন্ধি সংগঠন বা নাটোর তীব্র সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, সংকটের সময়ে নাটো এবং দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান বা অস্ট্রেলিয়ার মতো মিত্র দেশগুলো আমেরিকার পাশে দাঁড়ায়নি।
ট্রাম্পের মতে, নাটো বর্তমানে একটি ‘কাগজি বাঘ’ ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি দাবি করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এখন আর এই সামরিক জোটকে ভয় পান না। ইরান যুদ্ধের সময় সাহায্যের আবেদন জানানো হলেও সদস্য দেশগুলো সচেতনভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছিল বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। অথচ যুদ্ধ জয়ের পর এখন সেই দেশগুলোই সাহায্য করার জন্য দৌড়ে আসছে বলে তিনি কটাক্ষ করেন।
আমেরিকা ও নাটোর মধ্যে দূরত্বের সূত্রপাত গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে বলে মনে করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তাব নাকচ হওয়ার পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকলেও ওই দেশগুলো কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেনি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পূর্বের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই আজ কিম পরমাণু শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠেছেন। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের খুব কাছে মার্কিন সেনাদের মোতায়েন রাখা মোটেও সঠিক পদক্ষেপ ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমালোচকরা ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তিনি তা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমেরিকার তাঁর মতো আরও নেতার প্রয়োজন। সমালোচকদের মন্তব্যের তোয়াক্কা না করে তিনি স্পষ্ট জানান যে, আমেরিকার বাণিজ্যে অন্য দেশগুলোর একাধিপত্য তিনি আর সহ্য করবেন না। ওদিকে, বিরোধীরা ট্রাম্পকে পদ থেকে সরানোর দাবি তুলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।