নাতির ছোট্ট ভুলে প্রাণ হারালেন ঠাকুমা, মহিন্দ্রা থারের ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু

নাতির ছোট্ট ভুলে প্রাণ হারালেন ঠাকুমা, মহিন্দ্রা থারের ধাক্কায় মর্মান্তিক মৃত্যু

উত্তরপ্রদেশের ফারুখাবাদে গাড়ি পার্কিংয়ের সময় এক সামান্য অসতর্কতা ডেকে আনল ভয়াবহ পরিণতি। নিজের নাতির চালানো মহিন্দ্রা থার গাড়ির পিষ্ট হয়ে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত বৃদ্ধার নাম সরলা কাটারিয়া। নাতির চোখের সামনেই ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে? সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ নাতি তার থার গাড়িটি বাড়ির আঙিনায় পার্ক করার চেষ্টা করছিল। সেই সময় সরলা দেবী গাড়িটি ভেতরে ঢোকানোর জন্য গেট খুলে দেন। গাড়িটি ভেতরে ঢোকার পর তিনি যখন গেটটি বন্ধ করে তালা দিচ্ছিলেন, তখনই আচমকা গাড়িটি তীব্র গতিতে পিছনের দিকে ধেয়ে আসে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গাড়িটি পার্ক করার পর চালক নাতি সেটির হ্যান্ডব্রেক টানতে ভুলে গিয়েছিল। এর ফলে ঢালু জায়গায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছনের দিকে গড়িয়ে যায়। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সরলা দেবীকে গাড়িটি সজোরে ধাক্কা মারে এবং পিছনের দেয়ালের সঙ্গে পিষে ফেলে। বৃদ্ধা আর্তচিৎকার করলেও গাড়িটি থামানো সম্ভব হয়নি।

দুর্ঘটনার পর গুরুতর জখম অবস্থায় সরলা দেবীকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জানা গেছে, মৃত বৃদ্ধা অতীতে একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার ছেলে ফারুখাবাদে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন। একটি ছোট ভুল যে কত বড় ট্র্যাজেডি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।

ফতেগড় পুলিশ জানিয়েছে, হ্যান্ডব্রেক না দেওয়ায় গাড়িটি পিছনের দিকে চলে আসায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার বিশদ বিবরণ সংগ্রহ করছে প্রশাসন।

যেকোনো যানবাহন পার্কিংয়ের সময় হ্যান্ডব্রেক ব্যবহারের গুরুত্ব এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। চালকের সামান্যতম অসতর্কতা যে একটি পরিবারের সুখ কেড়ে নিতে পারে, ফারুখাবাদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানানোর ভাষা নেই স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *