নানুরে মমতার হাইভোল্টেজ সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ, ফর্ম ৬ বিতর্কে বড় জয়

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বীরভূমের নানুরে বিশাল জনসভা থেকে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নানুরের আল আমীন মডেল স্কুলের পাপুড়ি মাঠের এই সভা থেকে তিনি বিজেপিকে সরাসরি ‘লুটের দল’ বলে কটাক্ষ করেন। তবে বীরভূমের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। অনুব্রতর গড় হিসেবে পরিচিত নানুরে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বীরভূমের মাটির সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত ও আবেগঘন সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জেলাবাসীর মন জয়ের চেষ্টা করেন।
এদিন সভার শুরু থেকেই ফর্ম ৬ বিতর্ক নিয়ে সরব হন তৃণমূল নেত্রী। বিজেপি পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকায় বাইরে থেকে নাম ঢোকানোর চেষ্টা করছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে মমতা জানান, বিশেষ করে মহিলাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। বিয়ের পর পদবি পরিবর্তনের কারণে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের আইনি লড়াইয়ের সমস্ত খরচ দল বহন করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। কেন্দ্র বিরোধী সুর চড়িয়ে তিনি ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখা এবং রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন।
উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খতিয়ান দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, ‘যুবসাথী’ কোনো দান নয়, বরং এটি তরুণদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য ‘পকেট খরচ’। একইসঙ্গে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে বিজেপির যাবতীয় অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের নাম বদলের রাজনীতির পাল্টায় রাজ্যে ‘মহাত্মাশ্রী’ প্রকল্প চালুর ঘোষণাও করেন মমতা। গরিব মানুষের ব্যাঙ্কের তথ্য হাতিয়ে টাকা লুটের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি সাফ জানান, তৃণমূল মানুষের অধিকার রক্ষায় লড়াই জারি রাখবে। নানুরের এই সভা থেকে মমতা যেমন উন্নয়নের বার্তা দিলেন, তেমনই আইনি ও রাজনৈতিক কৌশলে বিজেপিকে কোণঠাসা করার হুঙ্কারও দিয়ে রাখলেন।