নাম বাদ পড়লে ভোট দেওয়া যাবে না, অন্তর্বতী সুযোগের আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা এবার তুঙ্গে। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আশায় জল ঢেলে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত তালিকায় নাম না থাকলে ভোট দেওয়া যাবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সুযোগ দেওয়ার যে আর্জি জানানো হয়েছিল, তা খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
বিপুল সংখ্যক আপিল ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা নাম বাতিল হওয়া নিয়ে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংক্রান্ত আপিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৭৪টি। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম কেন বাদ পড়ল এবং কীভাবে তা সংশোধন করা সম্ভব, তা নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হলেও সময়ের অভাবকেই বড় বাধা হিসেবে দেখছে আদালত।
প্রধান বিচারপতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নির্বাচনের ঠিক আগে এত বিপুল পরিমাণ আপিল নিষ্পত্তি করা কার্যত আসাম্ভব। ট্রাইব্যুনালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে কাজের গুণমান নষ্ট হতে পারে এবং ভুলের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছে আদালত।
আইনি বিতর্ক ও মধ্যপন্থার সন্ধান
আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন যে, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা অনুচিত। তিনি দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করে প্রয়োজনে সম্পূরক ভোটার তালিকা তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তবে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি বাগচির বেঞ্চ এখনই সেই দাবিতে সায় দেয়নি।
বিচারপতিদের মতে, ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং ভোটার তালিকার সঠিকতা যাচাই করা—এই দুটির মধ্যে একটি মধ্যপন্থা বজায় রাখা জরুরি। তাড়াহুড়ো করে তালিকা সংশোধন করতে গেলে বড় ধরনের ত্রুটি থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ও প্রশাসনিক জটিলতা
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও আদালতে জানানো হয়েছে যে, ভোটের আগে তালিকা চূড়ান্ত করার একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর হুট করে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত কঠিন। এছাড়া নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
রিপোর্ট অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের এই তালিকায় যেমন সাধারণ মানুষ আছেন, তেমনই নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের নাম বাতিলের অভিযোগও উঠেছে। উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে যেখানে নতুন ভোটার সংখ্যা বেড়েছে, সেখানে বাংলায় এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশিকার ফলে আপাতত এই ৩৪ লক্ষ মানুষের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।
একঝলকে
- ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ব্যক্তিদের ভোটাধিকারের আর্জি খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
- বাংলায় নাম বাদ বা বাতিল হওয়া নিয়ে মোট ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৭৪টি আপিল জমা পড়েছে।
- ভোটের আগে এত বেশি সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা আসাম্ভব বলে মনে করছে আদালত।
- আপাতত তালিকায় নাম না থাকলে কেউ ভোট দিতে পারবেন না।
- ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত।