নারীর সম্মানে আঘাত করলে গর্জে উঠবে বাংলা, ২০২৬ বিধানসভা ভোটের মুখে রণংদেহি মমতা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার সাথে সাথেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বুধবার মুর্শিদাবাদের বড়ঞার জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের তীব্র অভিযোগ তুলে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে নারী সুরক্ষার প্রশ্নে এদিন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। জনসভা থেকে তিনি সাফ জানান, মহিলাদের গায়ে হাত দিলে বা তাঁদের আত্মসম্মানে আঘাত করা হলে মা-বোনেরা তার যোগ্য জবাব দেবেন এবং প্রতিবাদ করা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি অভিযানে মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছে, তাকে অস্ত্র করেই মমতা এই ঝাঁঝালো মন্তব্য করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, ভোটের মুখে ভয় দেখিয়ে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। যখন বাড়ির পুরুষেরা বাইরে থাকছেন, তখন এজেন্সির নাম করে বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে তিনি সরব হন। তাঁর দাবি, বাংলার নারী শক্তি এই অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
মুর্শিদাবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রচারে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও নারী শক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে গত বছরের সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ওয়াকফ সংশোধনী বিলের তীব্র সমালোচনা করে তিনি রাজ্যে শান্তি বজায় রাখার আশ্বাস দেন। বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির সক্রিয়তাকে ‘নারী অবমাননা’র সঙ্গে যুক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার নতুন রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করছেন।