নারী শক্তি ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

নারী শক্তি ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

আসন্ন উৎসবের মরসুমে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নারীশক্তির ক্ষমতায়নে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পয়লা বৈশাখ, রঙ্গোলি বিহু, বিশু এবং বৈশাখীর মতো উৎসবের আবহে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ভারতের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে—বিজ্ঞান থেকে সশস্ত্র বাহিনী—নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। আগামী ১১ এপ্রিল মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলের ২০০তম জন্মবার্ষিকী এবং ১৪ এপ্রিল ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকরের জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক সাম্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র গড়ার ওপর বিশেষ জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৬ এপ্রিল সংসদে মহিলাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল কার্যকর করার বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, এটিকে কেবল একটি সংসদীয় কর্মসূচি হিসেবে দেখলে ভুল হবে; বরং এটি কোটি কোটি ভারতীয় নারীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের প্রতিফলন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে পাশ হওয়া ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসনিক স্তরে ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা আমাদের সভ্যতার ঐতিহ্যেরই অংশ।

নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষায় সুযোগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যোন্নয়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৯ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে এই সংরক্ষণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি কার্যকর হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই বিষয়টি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধান প্রণেতাদের সাম্যের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক অংশকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা গণতন্ত্রের জন্য কাম্য নয়, তাই এই পদক্ষেপ আর বিলম্বিত করা উচিত নয়।

সংসদের আসন্ন ঐতিহাসিক অধিবেশনে দলমত নির্বিশেষে সকল সাংসদকে এই বিলের সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বিশ্বাস করেন, জাতীয় স্বার্থে ভারত বরাবরই ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত হয়েছে এবং নারীশক্তির এই ক্ষমতায়ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করবে। সমষ্টিগত এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই ভারতের গণতন্ত্র আরও প্রতিনিধিত্বমূলক হয়ে উঠবে এবং উন্নয়নের গতি হবে সুস্থায়ী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *