নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে বড় ইঙ্গিত কেন্দ্রের, পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগেই কি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে বড় ইঙ্গিত কেন্দ্রের, পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগেই কি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কি নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে বড় কোনো চমক দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার? সংসদীয় কার্যমন্ত্রী কিরেন রিজিজু রাজ্যসভায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি ‘নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে’ বিশেষ অধিবেশন ডাকার পরিকল্পনার কথা জানাতেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ আগামী বিধানসভা নির্বাচনগুলোর আগে এই বিলের সময়কাল নিয়ে সরগরম দিল্লির রাজনীতি। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষে সংসদীয় কার্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ তৈরি হয়।

সংসদীয় কার্যমন্ত্রী জানান যে, চলতি অধিবেশনে তালিকাভুক্ত দুটি বিল পাস হওয়ার পর কক্ষ স্থগিত রাখা হবে। এর দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর একটি বিশেষ লক্ষ্য পূরণের জন্য পুনরায় অধিবেশন ডাকা হবে। সরকারের এই অবস্থানের কথা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিরোধী শিবির। কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ এবং বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন যে, আসন্ন নির্বাচনগুলোকে মাথায় রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই সরকার তড়িঘড়ি এই পদক্ষেপ করতে চাইছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সভার তাপমাত্রা মুহূর্তের মধ্যে বৃদ্ধি পায়।

বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে সরকারের এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, নারী সংরক্ষণের বিরোধী কেউ নয়, কিন্তু এর সময়কাল নিয়ে সরকার রাজনীতি করছে। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেসই প্রথম এই বিল আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। বিজেপি সরকার যদি সত্যিই আন্তরিক হতো, তবে চলতি অধিবেশনেই এটি কেন আনা হলো না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। খাড়গের অভিযোগের জবাবে কক্ষের নেতা জেপি নাড্ডা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকার কখন এবং কীভাবে বিল আনবে তা নির্ধারণ করার পূর্ণ অধিকার প্রশাসনের রয়েছে। তিনি পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন যে কাজ ৩০ বছরে হয়নি, তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করে দেখিয়েছেন।

সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রায় ৮০ শতাংশ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এই বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। কিরেন রিজিজু বিরোধীদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ২০২৯ সালের মধ্যে লোকসভা ও বিধানসভাগুলোতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিষয়ে কেন্দ্র দায়বদ্ধ। এটি কোনো রাজনীতির বিষয় নয় বরং নারী ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে বিরোধীদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের বিল আনা আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী হতে পারে। তাই তারা ২৯ এপ্রিলের পর সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়েছেন।

রাজ্যসভায় এই বিতর্কের মাঝেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের দিকে। রাজ্য রাজনীতিতে নারী ভোট ব্যাংক বরাবরই অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার যদি সত্যিই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিশেষ অধিবেশন ডেকে নারী সংরক্ষণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে তা নির্বাচনি সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে সরকার যেখানে একে উন্নয়নের মাইলফলক হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বিরোধীরা একে নির্বাচনী কৌশল হিসেবেই চিহ্নিত করতে চাইছে। সব মিলিয়ে নারী সংরক্ষণ বিলকে কেন্দ্র করে দিল্লির সংসদ থেকে শুরু করে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান এখন সরগরম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *