নিউটাউনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে রণক্ষেত্র রাজপথ, তৃণমূল কর্মীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে

নিউটাউনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে রণক্ষেত্র রাজপথ, তৃণমূল কর্মীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে

ভোটের প্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজারহাট নিউটাউন এলাকা। শুক্রবার নারায়ণপুরের মণিখোলা অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রচার চলাকালীন তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুরুতর জখম হয়েছেন এক তৃণমূল সমর্থক। অভিযোগ, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় ওই কর্মীর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় নারায়ণপুরের মণিখোলা এলাকায় বিজেপির একটি প্রচার কর্মসূচি থেকে। সেই সময় ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন তৃণমূল সমর্থক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পালটা হিসেবে গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ, বচসা চলাকালীন রাজারহাট নিউটাউনের বিজেপি প্রার্থীর উপস্থিতিতেই তৃণমূল কর্মীর ওপর চড়াও হয় একদল যুবক এবং মারধর করে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়।

রক্তাক্ত অবস্থায় আক্রান্ত ওই কর্মীকে উদ্ধার করে ভিআইপি রোডের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। জানা গিয়েছে, জখম ওই যুবক ব্লিঙ্কিট সংস্থায় কর্মরত। সহকর্মীর ওপর এমন হামলার প্রতিবাদে ওই ডেলিভারি সংস্থার কর্মীরাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং তৃণমূলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামিল হন। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এই হামলার প্রতিবাদে নারায়ণপুর থানার সামনে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন ও রাস্তা অবরোধ করেন রাজারহাট নিউটাউনের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূল শিবিরের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশেই তাঁদের কর্মীকে টার্গেট করা হয়েছে। তাপস চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে, অন্যথায় বৃহত্তর গণ আন্দোলনের পথে হাঁটবে দল। তিনি পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধেও অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে নারায়ণপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে দীর্ঘক্ষণ পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে এলাকায় পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক চাপানউতোরের জেরে থমথমে হয়ে রয়েছে গোটা এলাকা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *