নিজের ডিজাইন করা শাড়ি পরেন মমতা, শান্তিপুরে শাড়ির প্রশংসা করে বিশেষ গুণের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

বাংলার প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুমুখী প্রতিভার কথা সর্বজনবিদিত। তিনি যেমন ক্যানভাসে রং-তুলির টানে ছবি ফুটিয়ে তোলেন, তেমনই তাঁর লেখনীতে সমৃদ্ধ হয়েছে বহু কবিতার বই। সংগীত রচনা ও পিয়ানোতে সুর তোলার পাশাপাশি তাঁর রান্নার হাতের প্রশংসাও শোনা যায় অনেকের মুখে। তবে সোমবার শান্তিপুরের নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে নিজের আরও এক অজানা গুণের কথা প্রকাশ করলেন তৃণমূল নেত্রী। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, তিনি কেবল সাধারণ শাড়ি পরেন না, বরং নিজের ডিজাইন করা শাড়ি পরতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের ভূয়সী প্রশংসা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি আজ যে শাড়িটি পরে এসেছি, সেটি শান্তিপুরের এবং এটি আমার নিজের ডিজাইন করা।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তাঁর করা ডিজাইন অনেকে নকলও করেন, যা তাঁর বেশ ভালোই লাগে। শান্তিপুরের বসাক পরিবারের তৈরি শাড়ির বিশ্বজোড়া সুখ্যাতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, উৎসবের মরসুমে এই শাড়ির কদর বিশেষভাবে অনুভূত হয়। নিজের ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাঁর পরিবারের সদস্যরাও এই শাড়ির অনুরাগী এবং নববর্ষের উপহার হিসেবে তাঁর কাছে শান্তিপুরের শাড়ির আবদার করেছেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বাম আমলের উত্তাল দিনগুলোর কথা এবং ফেলানি বসাকের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। ১৯৯০ সালে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হওয়ার পরবর্তী দীর্ঘস্থায়ী কষ্টের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সেই ঘটনার পর থেকে খাবারে সামান্য ঝাল থাকলেও তিনি আর খেতে পারেন না, এমনকি ঘুমেরও সমস্যা হয়। বর্তমানে টানা ১৫ দিন নির্বাচনী প্রচারের জন্য বাড়ির বাইরে থাকলেও বাইরের খাবার এড়িয়ে চলেন তিনি। হোটেলের জাঁকজমকপূর্ণ খাবারের পরিবর্তে সাধারণ চিঁড়ে-মুড়ি কিংবা সেদ্ধ ডিম খেয়েই বর্তমানে দিন কাটছে বাংলার অগ্নিকন্যার।