নিয়ন্ত্রণ হারাল লিফ্ট: শুধুই প্রযুক্তির দোষ, নাকি লুকিয়ে আছে মানবীয় ভুল? তদন্তে নতুন মোড়

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে লিফটে আটকে দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি গাফিলতি, তা খতিয়ে দেখতে শনিবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, লিফটের দরজা এবং বেসমেন্টের তালাবদ্ধ গ্রিলের মাঝে আটকে পড়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তাঁর শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।
পরিবারের অভিযোগ, বেসমেন্টে লিফটের তালাবদ্ধ গ্রিল খোলার জন্য দীর্ঘক্ষণ আর্তি জানানো হলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। এমনকি কর্তব্যরত লিফটম্যান বা নিরাপত্তাকর্মীদেরও হদিশ মেলেনি সময়মতো। উদ্ধারকাজে বিলম্ব এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকেই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন নিহতের স্বজনরা। ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা অরূপের স্ত্রী ও সন্তানের বয়ানকে তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে পুলিশ।
এই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে টালা থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তিন জন লিফটম্যান এবং দুই জন নিরাপত্তাকর্মীসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের শিয়ালদহ আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে লালবাজারের হোমিসাইড শাখা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থা খতিয়ে দেখে স্বাস্থ্য ভবনে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া লিফটের যান্ত্রিক কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য রবিবার আবারও বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শনে যাবে।