নির্ধারিত নিয়ম না মেনেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্যের পেনশন চালু ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য শান্তা দত্ত দে-র অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা ও পেনশন চালু করা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। অভিযোগ উঠেছে, ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হোম সায়েন্স বিভাগের প্রধান থাকাকালীন তাঁর নামে থাকা ৪২ হাজার ৬০ টাকার বকেয়া বা অগ্রিমের মীমাংসা না করেই এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সমস্ত বকেয়া না মেটালে শিক্ষক বা আধিকারিকদের পেনশন চালু হওয়ার কথা নয়। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূলপন্থী সারা বাংলা শিক্ষাবন্ধু সমিতি।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টস বিভাগও। ওই বিভাগের বিরুদ্ধে একটি কর্মী সরবরাহকারী এজেন্সির প্রায় ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট এজেন্সিটি বকেয়া আদায়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সুদসহ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। সূত্রের খবর, উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ এই টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও অ্যাকাউন্টস বিভাগ তা কার্যকর করেনি। এর নেপথ্যে কোনো আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষাবন্ধু সমিতির আহ্বায়ক প্রবীর ঘোষ। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ কর্মীদের ক্ষেত্রে সামান্য বকেয়া থাকলে যেখানে পেনশন আটকে যায়, সেখানে প্রাক্তন উপাচার্যের ক্ষেত্রে কেন নিয়মের ব্যতিক্রম হলো?
এই প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টস অফিসার অভীক কুশারি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। অন্যদিকে, প্রাক্তন উপাচার্য শান্তা দত্ত দে জানান, কোনো বকেয়া থাকলে তা কেটে নেওয়ার দায়িত্ব অ্যাকাউন্টস বিভাগের। তিনি আড়াই বছর বিনা বেতনে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে শাসকপন্থী লবি সক্রিয় বলে দাবি করেছেন। গোটা ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় অন্দরে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।