নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই ব্রিগেডে মোদীর মেগা শো একই মঞ্চে কি দেখা যাবে মমতাকে

কলকাতা ১৪ মার্চ শনিবার এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে চলেছে। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করির পক্ষ থেকে পাঠানো এই আমন্ত্রণপত্র ঘিরে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন রাজ্যে শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন, অন্যদিকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহেই এই আমন্ত্রণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্রের খবর, শনিবার ব্রিগেডের এই মঞ্চ থেকে একাধিক জাতীয় সড়ক ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি শিষ্টাচার মেনেই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীকে এই অনুষ্ঠানে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি বিজেপির একটি অত্যন্ত সুকৌশলী পদক্ষেপ। যদি মুখ্যমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন, তবে বিজেপি তাকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সাফল্য হিসেবে প্রচার করবে। আবার তিনি অনুপস্থিত থাকলে, রাজ্যের উন্নয়নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলার সুযোগ পাবে গেরুয়া শিবির।
তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী নিজস্ব ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার রাস্তাঘাটের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার যখন গ্রামীণ সড়ক যোজনার টাকা আটকে রেখেছে, তখন এই ধরণের আমন্ত্রণ আদতে একটি রাজনৈতিক কৌশল বা ‘ফাঁদ’ ছাড়া আর কিছুই নয়। ফলে যুযুধান দুই প্রতিপক্ষকে একই মঞ্চে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা বনাম রাজনৈতিক লড়াইয়ের এই দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী কী সিদ্ধান্ত নেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।