নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হকার পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানেই ভরসা রাখছেন কবি দত্ত

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হকার পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানেই ভরসা রাখছেন কবি দত্ত

দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রে নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে বড় পদক্ষেপ নিলেন তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত। সম্প্রতি ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’ শীর্ষক রাজ্যস্তরের ইস্তেহারের রেশ ধরে নিজের কেন্দ্রের জন্য একটি স্বতন্ত্র জনকল্যাণমূলক ইস্তেহার প্রকাশ করেছেন তিনি। এই ইস্তেহারে হকারদের পুনর্বাসন থেকে শুরু করে বেকার সমস্যা সমাধান ও পরিকাঠামো উন্নয়নের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হকার উচ্ছেদ বিতর্ক সামাল দিতেই এই বিশেষ রণকৌশল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

হকার সমস্যা ও চিরস্থায়ী সমাধানের পথ

গত বছর পুজোর আগে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন সংস্থা (ADDA) কর্তৃক হকার উচ্ছেদের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলের রাজনীতি বেশ তপ্ত হয়ে উঠেছিল। কয়েকশো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় বিরোধীরা এটিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছিল। এই বিতর্কে জল ঢালতে কবি দত্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের ফেলে রাখা হবে না। অত্যন্ত স্বল্প ভাড়ার বিনিময়ে তাঁদের জন্য আধুনিক কিয়স্ক তৈরি করে দেওয়া হবে, যা তাঁদের রুজি-রুটির স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করবে।

কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নে বিশেষ জোর

দুর্গাপুরের মতো শিল্প শহরে বেকারত্ব একটি বড় ইস্যু। কবি দত্ত তাঁর ইস্তেহারে জানিয়েছেন, স্থানীয় কারখানাগুলোর সাথে সমন্বয় রক্ষা করে এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কর্মসংস্থানের পথে আসা যেকোনো বাধা অতিক্রম করে স্থানীয়দের কাজের অধিকার নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন।

নাগরিক পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন

শুধুমাত্র কর্মসংস্থান নয়, দৈনন্দিন নাগরিক সমস্যা সমাধানের বিষয়গুলোকেও ইস্তেহারে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • পানীয় জলের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান।
  • শহরের যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করতে নতুন বাস টার্মিনাল নির্মাণ।
  • স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন।
  • বস্তি এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে জমির পাট্টা প্রদান এবং জমির মালিকানা পুনর্নবীকরণ।

রাজনৈতিক সংঘাত ও বিরোধীদের পাল্টা দাবি

কবি দত্ত স্বয়ং আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন, যার বিরুদ্ধেই হকার উচ্ছেদের অভিযোগ। ফলে বিরোধীদের আক্রমণ ছিল তীব্র। বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘড়ুই পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন যে, স্থানীয়দের বঞ্চিত করে বহিরাগতদের টাকার বিনিময়ে কারখানায় ঢোকানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, একমাত্র ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারই দুর্গাপুরের প্রকৃত উন্নয়ন ঘটাতে পারে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে কবি দত্তের জনমুখী ইস্তেহার ভোটারদের মন কতটা জয় করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *