নির্বাচনের আগে অশান্তি ছড়াতে ৪০ জনকে গ্রেফতারের পরিকল্পনা, মমতার বিস্ফোরক অভিযোগ

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এলাকা থেকে বেছে বেছে ৪০ জন নির্দোষ তৃণমূল কর্মীকে তুলে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। মালদার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার না করে কেবলমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের শীর্ষস্তরের এই ক্ষোভ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জনসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, কেন ২০২৪-এর তালিকায় থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট এলাকায় ভোট করানো হচ্ছে না? তিন মাস আগে থেকেই বিরোধীরা ‘নোংরা খেলা’ শুরু করেছে বলে তিনি তোপ দাগেন। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনসমর্থন পাওয়ার বদলে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি, সিবিআই এবং এনআইএ-র কার্যক্রমকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে তিনি সাধারণ মানুষকে কোনও প্ররোচনায় না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম না করে ‘মোটাভাই’ সম্বোধনে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, বিএসএফ এবং বর্ডার গার্ডের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে কেন্দ্রের হাতে। তৃণমূল কংগ্রেসকে বারংবার ‘চোর’ বলে অপদস্ত করার চেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে তৃণমূলকে দমিয়ে রাখা যাবে না। নির্বাচনের ময়দানে এই লড়াইয়ের মোকাবিলা ‘খেলা হবে’ স্লোগানের মাধ্যমেই করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
শেষ পর্যন্ত দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করে ভোট প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই সক্রিয়তা এবং মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা হুঁশিয়ারিতে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া কার্যত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।