নির্বাচনের মুখে আমাকে খুনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, ড্রোন কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। সোমবার পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়ের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে খুনের চক্রান্ত করা হয়েছে বলে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। গত সপ্তাহে মালদহে সভা করতে গিয়ে হেলিকপ্টারে ওঠার মুহূর্তে তিনি সামনে একটি ড্রোন উড়তে দেখেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ড্রোনটি তাঁর হেলিকপ্টারে ধাক্কা মারলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে বিহারের তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, ড্রোন উড়িয়ে তাঁর প্রাণ নেওয়ার চেষ্টা হলেও তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে পিছিয়ে আসবেন না। মালতিপুরের সভাতেও একই ধরণের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশের শীর্ষ স্তরে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিরোধীদের একাংশ তাঁর কণ্ঠ রোধ করতেই এ জাতীয় ভয়ংকর কৌশল অবলম্বন করছে। ড্রোন কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এখন শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
নিরাপত্তা ইস্যুর পাশাপাশি প্রশাসনিক রদবদল নিয়েও সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও ডিএমকে-র সঙ্গে কমিশনের আঁতাতের অভিযোগ তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অন্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ থেকেই আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের বেশি সংখ্যায় সরানো হচ্ছে। প্রায় পাঁচশো উচ্চপদস্থ আধিকারিককে ভিন রাজ্যে বদলি করার বিষয়টিকে তিনি পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করেছেন।
কলকাতা পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সুপ্রতিম সরকারকে সরানোর সিদ্ধান্তকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই এই বদলি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, একদিকে খুনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এবং অন্যদিকে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়িয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাপ্রবাহ রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।