নির্বাচন কমিশনের কড়া হুঁশিয়ারি: আবগারি থেকে নার্কোটিক্স, একাধিক সংস্থাকে তীব্র ভর্ৎসনা

ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে এসেই কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চ। সোমবার সকালে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় ও রাজ্য এজেন্সিগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এই বৈঠকে কাজকর্মে গাফিলতির অভিযোগে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, আবগারি এবং নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর আধিকারিকদের তীব্র ভর্ৎসনা করা হয়। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো সংস্থাই যে রেয়াত পাবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন।
আবগারি দপ্তরকে মদের উৎপাদন ও সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে কমিশনের প্রতিনিধিরা সাফ জানান, বাড়তি মুনাফার লোভে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি, রাজ্যে কেন এখনো নারকোটিক অ্যাডভাইজারি বোর্ড গঠন করা হয়নি, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন কমিশনার। বিমানবন্দর দিয়ে বেআইনি লেনদেনের রিপোর্ট না মেলায় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেআইনি অর্থ উদ্ধারে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন।
তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে কমিশন জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার ইচ্ছাকৃত গরমিল বা গাফিলতি ধরা পড়লে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্রের খবর, এক জেলা আধিকারিক জানিয়েছেন যে কমিশন আধিকারিকদের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, নিয়ম লঙ্ঘনের ফল হবে অপরিবর্তনীয়। মূলত কালো টাকা, মাদক এবং মদের অপব্যবহার রুখে স্বচ্ছ নির্বাচন করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। সব মিলিয়ে ভোটের মুখে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়াতে নজিরবিহীন চাপ তৈরি করল নির্বাচন কমিশন।