নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে বিক্ষোভের জেরে এফআইআর, বিএলও নেত্রীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ পুলিশের
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরের সামনে সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় এবার কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করল পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশের পর ‘বিএলও (BLO) অধিকার রক্ষা কমিটি’র প্রভাবশালী সদস্য তনুশ্রী মোদক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা দান এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ফর্ম-৬ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সিইও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল ওই কমিটি। সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যখন কমিশনে অভিযোগ জানাতে যান, তখন পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। অভিযোগ উঠেছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন এবং উচ্চপদস্থ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে কুরুচিকর স্লোগান দেন। সরাসরি কমিশনের দপ্তরে ঢুকে সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটানোর এই ঔদ্ধত্যকে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার নেপথ্যে গভীর সমীকরণ রয়েছে। অভিযোগ উঠছে যে, বিএলও-দের একটি অংশকে ব্যবহার করে আসলে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় বাধা দিতেই এই অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই বিক্ষোভের আড়ালে শাসক দল তাদের ভোট ব্যাংক সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছে।
ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, দপ্তরের ভেতর কোনো ধরণের অসামাজিক বা বিশৃঙ্খল কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিইও দপ্তরের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সবুজ সংকেতও মিলেছে। পুলিশের এই এফআইআর-এর পর সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা কতটা কোণঠাসা হন এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সাধারণ নাগরিকরা বর্তমানে একটি স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকার অপেক্ষায় রয়েছেন।