নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তোপ তৃণমূলের: পুলিশ পর্যবেক্ষকের পারিবারিক ‘পদ্ম-যোগ’ নিয়ে চাঞ্চল্য

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশন ও দিল্লির শাসকদলের যোগসাজশ নিয়ে সরব হলো তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও পার্থ ভৌমিক অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলিহেলনে কমিশন বাংলার বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস আধিকারিক জয়ন্ত কান্তকে মালদহের সংবেদনশীল এলাকায় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
তৃণমূলের দাবি, বর্তমানে বিহারে কর্মরত ওই আধিকারিকের স্ত্রী বিজেপির একজন সক্রিয় নেত্রী। বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর হাত থেকে তাঁর পতাকা নেওয়ার ছবি দেখিয়ে ব্রাত্য বসু প্রশ্ন তোলেন, যাঁর পরিবার সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, তিনি বাংলায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন কোন ভরসায়? এই পদক্ষেপকে ১৯৩৯ সালে হিটলারের চেকোস্লোভাকিয়া দখলের সঙ্গে তুলনা করে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
প্রশাসনিক রদবদল নিয়েও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে শাসক দল। বিনা কারণে রাতারাতি ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলে দেওয়ার ঘটনাকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, ৪ মে-র পর দেশজুড়ে এই আচরণের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হবে। কমিশনের এই প্রতিটি পদক্ষেপের হিসাব আগামী দিনে জনগণকে দিতে হবে বলে দাবি করেন মন্ত্রী ব্রাত্য বসু।