নির্বাচন কমিশনের বড় ঘোষণা, ১ হাজার ২০০-র বেশি ভোটার থাকলে মিলবে সহায়ক ভোটকেন্দ্র

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের সুবিধার্থে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। রাজ্যের যেসব এলাকায় ভোটারের সংখ্যা ১,২০০ অতিক্রম করেছে, সেখানে সহায়ক ভোটকেন্দ্র বা অক্সিলিয়ারি পোলিং স্টেশন স্থাপনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের দীর্ঘ লাইন এড়ানো এবং নির্বিঘ্নে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মোট ৪,৬৬০টি এই ধরনের সহায়ক ভোটকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে জনবহুল এলাকার ভোটাররা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। বিশেষ করে কোভিড পরবর্তী সময়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণে কমিশনের এই বাড়তি সতর্কতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সহায়ক কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি বেশ কিছু পোলিং স্টেশন পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে কমিশন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থান ও কৌশলগত কারণে রাজ্যের মোট ৩২১টি ভোটকেন্দ্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই রদবদল করা হয়েছে যাতে ভোটারদের যাতায়াতে সুবিধা হয়।
নতুন এই পরিবর্তনের ফলে পশ্চিমবঙ্গে ভোটকেন্দ্রের সামগ্রিক চিত্রেও বদল এসেছে। বর্তমানে সারা রাজ্যে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫,৩৭৯টি। বিপুল সংখ্যক এই বুথ সামলানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন নির্বাচন কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে পরিকাঠামোগত এই উন্নতি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কমিশনের এই নির্দেশিকাটি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে বুথ স্থানান্তর এবং সহায়ক কেন্দ্রের তালিকা দ্রুত প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত যত্ন সহকারে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের স্বস্তি দিতে নির্বাচন কমিশনের এই পরিকাঠামোগত সংস্কার এক ইতিবাচক দিক। নতুন পোলিং স্টেশন এবং সহায়ক কেন্দ্রগুলি চালু হওয়ার ফলে ভোটগ্রহণের গতি বাড়বে এবং বুথে ভিড় হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই হ্রাস পাবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ও বুথ বিন্যাস নিয়ে এখন সব মহলেই ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।