নির্বাচন কমিশনের রোষে পুলিশ-প্রশাসন: মালদহকাণ্ডে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি

মালদহের মানিকচকে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিক্ষোভে সাত বিচারককে আটকে রাখার ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের নবনিযুক্ত ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিংহকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে পুলিশ সুপারের কাছে ঘটনাস্থলে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়া হয়। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে দায়বদ্ধ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সংবিধানের ৩১১ ধারায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর অধীনে অভিযুক্তদের সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসরের মতো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে মালদহসহ চারটি ডিভিশনাল কমিশনারকে তাঁদের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে শুধুমাত্র বিভাগীয় কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা ও ভবানীপুরের সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলা নিয়েও পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে এবার আর কেবল বদলি বা সাসপেনশন নয়, বরং কঠোর আইনি ব্যবস্থার পথেই হাঁটছে নির্বাচন ভবন। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।