নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর, দক্ষিণবঙ্গে ম্যারাথন ভোট প্রচার

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে তুলে দক্ষিণবঙ্গে ম্যারাথন প্রচারে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে আয়োজিত এক জনসভা থেকে তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভোটের সময় বাংলার দক্ষ অফিসারদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তামিলনাড়ুতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক স্তরে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি তুলে তিনি বলেন, দিল্লি থেকে ফোন করে আধিকারিকদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং এই ষড়যন্ত্রের সব তথ্যই তাঁর কাছে রয়েছে।
বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভোট কাটার রাজনীতি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নাম না করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ থাকতে এই পরিকল্পনা সফল হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সতর্ক করে দিয়ে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন, ভোটের রাতে যেন ইভিএম বা মেশিনে কোনো কারচুপি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২৯৪টি আসনেই তিনি আসল প্রার্থী, তাই সাধারণ মানুষকে শুধু ‘জোড়াফুল’ চিহ্ন দেখে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
একই মঞ্চ থেকে দলের বিদ্রোহী নেতাদের প্রতিও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফরাক্কার বিদায়ী বিধায়ক মনিরুল ইসলাম টিকিট না পেয়ে কংগ্রেসের হয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় তাঁকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, দলের স্বার্থে এখনই নাম প্রত্যাহার না করলে তাঁকে সাসপেন্ড করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যাঁরা মানুষের সঙ্গে থেকে দিনরাত পরিশ্রম করবেন, কেবল তাঁরাই আগামী দিনে যোগ্য সম্মান পাবেন। দলবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে, এদিনের সভা থেকে বিজেপি বিরোধী সুর তীব্র করে ভোটারদের সতর্ক থাকার বার্তা দেন তৃণমূল নেত্রী।