‘নির্লজ্জ বিজেপির দালাল কমিশন’, ভোটাধিকার ধরনা মঞ্চ থেকে হুংকার মমতার

কলকাতা: ‘লড়াই এবার রাস্তায়। লড়াই এবার বিজেপি ও তদের সহকারী সংস্থা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে। ছাড়া হবে না এক ইঞ্চি জমি’—বাংলার মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে এভাবেই রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরে গেলেন ২০ বছর আগের মেজাজে। সেই ঐতিহাসিক ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল। ২০০৬ সালে সিঙ্গুরে জমি দখলের প্রতিবাদে এখানেই টানা ২৬ দিন অনশন কর্মসূচি করেছিলেন বাংলার তৎকালীন বিরোধী নেত্রী। আর ২০২৬ সালের ৬ মার্চ সেই মেট্রো চ্যানেলই মমতা শুরু করলেন বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় ধরনা। জানিয়ে দিলেন, এই কর্মসূচি চলবে। মমতার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, ‘নির্লজ্জ বিজেপি ও তাদের দালাল নির্বাচন কমিশন। ওরা বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায়। তার বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই।’
২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি শুরু করেছিল কমিশন। সেদিন কলকাতার রাজপথে প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন মমতা। সেটাই ছিল আন্দোলনের শুরু। শুক্রবারের ধরনা কর্মসূচি তাকেই সপ্তমে পৌঁছে দিল। রাতভর ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলেই বসে মুখ্যমন্ত্রী। এই দৃশ্য যেমন রাজনীতির কারবারিদের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ, তেমনই আশার আলো হয়রানির শিকার এক কোটির বেশি বঙ্গবাসীর। শনিবার সকাল ১০টায় ফের তাঁর কর্মসূচি। আনম্যাপড, বিচারাধীন এবং সেই ভোটারদের নিয়ে, যাঁরা জীবিত হওয়া সত্ত্বেও কমিশনের খাতায় মৃত। তাঁর হুংকার, ‘বাস্তবে জীবিত, এমন মানুষদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে মৃত বলে ঘোষণা করেছে কমিশন। আমার পাড়া কালীঘাটেও এমন প্রচুর মানুষ রয়েছেন। তাঁদের আমি ধরনা মঞ্চে হাজির করব।’ এই ষড়যন্ত্র যে তিনি মেনে নেবেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বাংলার অগ্নিকন্যা। একটি বেসরকারি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারেও বলেছেন, ‘জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষাই এবার নির্বাচনে আমার প্রধান ইস্যু। বিজেপি ও ভ্যানিশ কুমারের জন্য দেশের গণতন্ত্রই বিপন্ন। কমিশন একদিকে নাম বাদ দেওয়ার খেলায় মেতেছে। আর যাঁরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে চাইছেন, তাঁদের দিল্লির উপরতলা থেকে ফোন করে থ্রেট করা হচ্ছে। আমি এসবে ভয় পাই না।’ বাংলায় যে তৃণমূলই ক্ষমতায় থাকছে, সে ব্যাপারে এতটুকু সংশয় প্রকাশ করেননি মমতা। উলটে বলেছেন, কেন্দ্রে বিজেপি আর থাকবে না। আর তার জন্য ২০২৯ পর্যন্ত অপেক্ষা নাও করতে হতে পারে। বিজেপির ‘ব্ল্যাকমেল পলিটিক্স’কে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। ভোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর আক্রমণ, ‘রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করবে? তাতেও ভোটে জিততে পারবে না। মানুষই বিজেপিকে ভোট দেবে না। ওদের অত্যাচার আম জনতা দেখে নিয়েছে।’ সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষায় এই আন্দোলন যে চলবে, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন মমতা। তা সে সাক্ষাৎকার হোক, বা ধরনা মঞ্চ। এদিন কিন্তু ধর্মতলায় মমতার পাশেই বসেছিলেন এসআইআর আতঙ্কে প্রাণ হারানো বহু মানুষের পরিবার। নেত্রীর সঙ্গে শপথ তাঁরাও যে নিয়েছেন, এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।