নেহরুর বই পড়ে ভারত থেকে শিক্ষা নিতে চেয়েছিলেন খামেনেই

নেহরুর বই পড়ে ভারত থেকে শিক্ষা নিতে চেয়েছিলেন খামেনেই

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের প্রয়াণের পর এখন বিশ্বজুড়ে চর্চায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং পড়াশোনার ঝোঁক। মার্কিনী ও ইজরায়েলি হামলায় তাঁর মৃত্যুর পর সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে তাঁর পুরনো বেশ কিছু সাক্ষাৎকার এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। সেখান থেকেই উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। খামেনেই কেবল একজন ধর্মীয় বা রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর লেখার গুণমুগ্ধ পাঠক। বিশেষ করে নেহরুর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘গ্লিম্পসেস অফ ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি’ পড়ে তিনি এতটাই অভিভূত হয়েছিলেন যে, ইরানবাসীকেও সেই বই পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

২০১৩ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন টুইটার (বর্তমানে এক্স) হ্যান্ডেলে খামেনেই লিখেছিলেন যে, নেহরুর বই পড়ার আগে তিনি জানতেনই না ব্রিটিশ শাসনের আগে ভারত শিল্প ও অর্থনীতিতে কতটা উন্নত ছিল। তাঁর মতে, নেহরুর লেখনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে কীভাবে ব্রিটিশরা ভারতের দেশীয় শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিল। খামেনেই মনে করতেন, ভারত একসময় সম্পূর্ণ ‘আত্মনির্ভর’ ছিল এবং সেই ইতিহাস থেকে বর্তমান ইরানের শিক্ষা নেওয়া উচিত। বিশেষ করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার রসদ তিনি নেহরুর ইতিহাসের ব্যবচ্ছেদ থেকেই খুঁজে পেয়েছিলেন।

খামেনেইয়ের পড়াশোনার পরিধি ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত। প্রথাগত ধর্মীয় শিক্ষার বাইরেও তিনি বিশ্বসাহিত্যের অনুরাগী ছিলেন। জেন অস্টিনের ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ থেকে শুরু করে মিখাইল শোলোকোভ বা অ্যালেক্সেই টলস্টয়ের ধ্রুপদী সাহিত্য— সবক্ষেত্রেই তাঁর বিচরণ ছিল। এমনকি তিনি নিজে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আরবি বই ফারসি ভাষায় অনুবাদও করেছিলেন। নেহরুর বইয়ের মাধ্যমে ভারতের উপনিবেশ-বিরোধী লড়াইয়ের ইতিহাসকে তিনি যেভাবে নিজের দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন, তা আজ তাঁর মৃত্যুর পর নতুন করে কূটনৈতিক ও ঐতিহাসিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *