নেহরু ক্যাবিনেটে শ্যমা প্রসাদের পদত্যাগ থেকে আজকের বিজেপি তৈরির সম্পূর্ণ ইতিহাস

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) যাত্রাপথ ও জনসংঘের ইতিহাসের প্রেক্ষাপট অত্যন্ত ঘটনাবহুল। ১৯৫১ সালে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে যে রাজনৈতিক বীজের বপন হয়েছিল, তা-ই আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে। নেহরু মন্ত্রিসভায় শ্রমমন্ত্রী থাকাকালীন জম্মু-কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্তি, ৩৭০ নম্বর ধারা এবং স্বতন্ত্র পতাকার বিরোধিতায় সরব হয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পদত্যাগ করেন। এই ইস্তফাই দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন বিকল্প তৈরির পথ প্রশস্ত করেছিল।
ইস্তফার পর ডঃ মুখোপাধ্যায় আরএসএস-এর তৎকালীন প্রধান শ্রী গুরুজির সঙ্গে সাক্ষাত করেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের একটি রাজনৈতিক শাখার প্রয়োজনীয়তা এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ মিলে মিশে ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লির রাঘোমলে ভারতীয় জনসংঘের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা হয়। গেরুয়া পতাকা এবং প্রদীপকে প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়ে দলটির অগ্রযাত্রা শুরু হয়। ১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনেই জনসংঘ ৩.০৬ শতাংশ ভোট এবং তিনটি আসন লাভ করে জাতীয় দলের মর্যাদা পায়।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজে প্রথম লোকসভায় সাংসদ নির্বাচিত হয়ে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট নামে ৩৮ জন সাংসদের একটি জোট গঠন করেন। এর ফলে তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রথম বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পান। ১৯৭৭ সালে জনসংঘ জনতা পার্টির সঙ্গে মিশে গেলেও ‘দ্বৈত সদস্যপদ’ ইস্যুতে মতবিরোধ দেখা দেয়। জনতা পার্টির দাবি ছিল, দলের কোনো সদস্য আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। এই শর্ত মানতে অস্বীকার করে জনসংঘের নেতারা জোট থেকে বেরিয়ে আসেন।
পরবর্তীতে ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল জনসংঘের নতুন সংস্করণ হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটে। অটল বিহারী বাজপেয়ী দলের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। মূলগতভাবে বিজেপি এবং জনসংঘের আদর্শ অভিন্ন হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রণকৌশল পরিবর্তিত হয়েছে। আজকের দিনে দেশের প্রধান শাসক দল হিসেবে বিজেপির এই উত্থানের নেপথ্যে নেহরু মন্ত্রিসভা থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সেই ঐতিহাসিক পদত্যাগ ছিল এক প্রধান অনুঘটক।