পকেট ফ্রেন্ডলি ছোট রান্নার গ্যাসের ব্যাপক সাফল্য, মাত্র ১৪ দিনে বিক্রি লক্ষাধিক ‘ছোটকু’ সিলিন্ডার

দেশে রান্নার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ৫ কেজির বিশেষ এলপিজি সিলিন্ডার বা ‘ছোটকু’-র সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিলের মধ্যে দেশজুড়ে প্রায় ৬.৬ লক্ষ এই ধরনের ছোট সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে। শুধুমাত্র গত ৪ এপ্রিল এক দিনেই ৯০ হাজারেরও বেশি সিলিন্ডার গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দিয়ে এক অনন্য নজির গড়েছে মন্ত্রক।
সাধারণ ১৪.২ কেজির ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের তুলনায় এই ৫ কেজির এফটিএল (ফ্রি ট্রেড এলপিজি) সিলিন্ডার কেনা অনেক সহজ। এর জন্য গ্রাহককে কোনো ঠিকানার প্রমাণপত্র বা রেসিডেন্সিয়াল প্রুফ জমা দিতে হয় না। বাজারমূল্যে সরাসরি নিকটস্থ গ্যাস এজেন্সি থেকে এই সিলিন্ডার সংগ্রহ করা সম্ভব। মূলত পরিযায়ী শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং ছোট পরিবারের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই এই সহজলভ্য পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে যে দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে এক দিনেই প্রায় ৫১ লক্ষের বেশি ঘরোয়া সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং মোট চাহিদার ৯৫ শতাংশই পূরণ হচ্ছে অনলাইন বুকিংয়ের মাধ্যমে। মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই মার্চ মাস থেকে ৫০ হাজারের বেশি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ৩৬টি ডিলারশিপ স্থগিত করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক গ্যাসের ক্ষেত্রে সরবরাহ বর্তমানে সংকটপূর্ব সময়ের প্রায় ৭০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যাতে ঘরোয়া ও ছোট সিলিন্ডারের জোগান নিরবচ্ছিন্ন থাকে। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। বিশেষ করে সার কারখানার জন্য গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করে গড় ব্যবহারের ৯০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার, যা কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক সংবাদ।
বর্তমানে দেশের সমস্ত রিফাইনারি পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং পেট্রোল পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা বা ‘প্যানিক বায়িং’ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যেকোনো তথ্যের জন্য কেবল সরকারি বার্তার ওপর ভরসা রাখতে এবং কালোবাজারি রুখতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।