পটাশপুরে বিজেপি প্রার্থীর ওপর তৃণমূলের নজিরবিহীন হামলা ও বোমাবাজি

পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর বিধানসভার অন্তর্গত পটাশপুরে নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন বিজেপি প্রার্থী শান্তনু প্রামাণিকের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। অভিযোগের তির সরাসরি শাসকদল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। বিজেপি শিবিরের দাবি, বিনা প্ররোচনায় সুপরিকল্পিতভাবে প্রার্থীর মিছিলে হামলা চালানো হয়েছে।
শান্তনু প্রামাণিক যখন তাঁর দলীয় কর্মীদের নিয়ে জনসংযোগ সারছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই একদল দুষ্কৃতী তাঁদের ওপর চড়াও হয়। লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণের পাশাপাশি ব্যাপক বোমাবাজি করা হয় বলে অভিযোগ। হামলায় প্রার্থী স্বয়ং জখম হয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আক্রমণকারীরা কেবল মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তাণ্ডব চালিয়েছে প্রার্থীর কনভয়ে থাকা একাধিক যানবাহনে। প্রার্থীর গাড়ি ও কর্মীদের ব্যবহৃত বেশ কিছু মোটরবাইক ভাঙচুর করা হয়। রাস্তার ওপর যত্রতত্র বাইক উল্টে ফেলে রেখে ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চালানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক রাউন্ড গুলি এবং মুহুর্মুহু বোমার শব্দে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং আতঙ্কিত মানুষ ঘরবন্দি হয়ে যান।
এই নক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে তাঁরা পটাশপুরের প্রধান সড়ক অবরোধ করেন। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর ফলে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিজেপির জেলা নেতৃত্বের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে তৃণমূল এখন পেশিশক্তি ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় এবং বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা হয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। বর্তমানে এলাকায় চাপা উত্তেজনা থাকায় বিশাল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কাছেও এই হামলার বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। বিরোধী দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে মেদিনীপুরের এই সংবেদনশীল এলাকায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা জনমানসে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।