পথদুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে জল দিচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন মৃত্যু! জেনে নিন চিকিৎসকদের সতর্কতা

পথদুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে জল দিচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন মৃত্যু! জেনে নিন চিকিৎসকদের সতর্কতা

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কাউকে দেখে মানবিকতার খাতিরে আমরা দ্রুত তার মুখে জল তুলে দিই। অথচ চিকিৎসকদের মতে, এই সাধারণ একটি কাজই হতে পারে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ। ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় ২ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। এর মধ্যে একটি বড় অংশের মৃত্যুর পেছনে দায়ী দুর্ঘটনাস্থলে সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসার অভাব এবং সাধারণ মানুষের কিছু ভুল পদক্ষেপ।

কেন আহত ব্যক্তিকে জল পান করানো বিপজ্জনক

দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তি মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রচণ্ড শকের মধ্যে থাকেন। তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাচ্ছে ভেবে অনেকেই তাকে জল পান করান। এটি জীবন রক্ষার বদলে জীবনের ঝুঁকি বাড়ায় কারণ:

  • অ্যানেশথেশিয়া ও অস্ত্রোপচারের জটিলতা: গুরুতর আহত ব্যক্তির মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা হাড় ভাঙার কারণে জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। অপারেশনের আগে রোগীকে অ্যানেশথেশিয়া বা অ্যানেস্থেটিক দেওয়া হয়। পাকস্থলীতে জল বা খাবার থাকলে তা উল্টো পথে ফুসফুসে চলে যেতে পারে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাসপিরেশন’ বলা হয়, যা নিউমোনিয়া বা শ্বাসরোধের কারণ হতে পারে।
  • শ্বাসরোধের ঝুঁকি: আহত ব্যক্তি যদি আধা-অচেতন থাকেন, তবে তার শরীরের রিফ্লেক্স বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করে না। এই অবস্থায় জল পান করালে তা খাদ্যনালীর বদলে সরাসরি শ্বাসনালীতে ঢুকে মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যু ঘটাতে পারে।

দুর্ঘটনায় প্রাথমিক সহায়তার সঠিক নিয়ম

দুর্ঘটনার স্থানে ভিড় করে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু জরুরি পদক্ষেপ হলো:

  • হেলমেট না খোলা: মোটরসাইকেল আরোহী দুর্ঘটনায় পড়লে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে তার হেলমেট খোলার চেষ্টা করবেন না। হেলমেট খোলার সময় ঘাড় বা মেরুদণ্ডের হাড়ে মারাত্মক চোট লাগার ঝুঁকি থাকে।
  • রক্তক্ষরণ বন্ধ করা: যদি শরীরের কোনো অংশ থেকে রক্তপাত হয়, তবে একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে সেই স্থানটি চেপে ধরে রক্তক্ষরণ কমানোর চেষ্টা করুন।
  • সঠিকভাবে শোয়ানো: আহত ব্যক্তি বমি করলে তাকে চিৎ করে না রেখে একপাশে ফিরিয়ে দিন, যাতে বমি শ্বাসনালীতে আটকে না যায়।
  • মেরুদণ্ড সোজা রাখা: রোগীকে সরানোর প্রয়োজন হলে খেয়াল রাখতে হবে যেন তার ঘাড় বা মেরুদণ্ড না বাঁকে। শক্ত কোনো বোর্ড বা স্ট্রেচার ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।

একঝলকে

  • দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে ভুল করেও গ্লাস ভরে জল পান করাবেন না।
  • জরুরি অস্ত্রোপচারের স্বার্থে পাকস্থলী খালি রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন।
  • বমির কারণে শ্বাসরোধ এড়াতে রোগীকে কাত করে শুইয়ে দিন।
  • ঘাড়ের আঘাত গুরুতর হতে পারে, তাই নিজ উদ্যোগে হেলমেট খুলবেন না।
  • মানবিকতার বদলে বৈজ্ঞানিক উপায়ে সহায়তা করে জীবন বাঁচান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *